রবিবার , সেপ্টেম্বর ২০ ২০২০
Breaking News

৫ লাখ পর্যন্ত ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক কমছে

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্কহার বাড়ানোর যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, ব্যাপক সমালোচনার মুখে তুলনামূলক স্বল্প আমানতের ক্ষেত্রে তা কমাচ্ছে সরকার। বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শুল্কের নতুন স্তর সৃষ্টি করে নতুন হার নির্ধারণ করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বলার পর তিনি নতুন হার সংসদে প্রস্তাব করেন। অর্থমন্ত্রীর সংশোধিত প্রস্তাব এখন সংসদে পাস হবে।

গত ১ জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার যে বাজেট সংসদে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তাতে ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্কহার বাড়ানো হয়। তাতে বলা হয়, বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা দিতে হবে। ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি স্থিতিতে ১৫ হাজার টাকার বদলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আদায়ের প্রস্তাবও করেন মুহিত।

প্রধানমন্ত্রী এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতে কোনো আবগারি শুল্ক না রাখতে বলেন। ১ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত তিনটি স্তর প্রস্তাব করেন তিনি। শেখ হাসিনা ১ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতে ১৫০ টাকা এবং ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটার প্রস্তাব করেন। ১ কোটি টাকার উপর অন্য স্তরের ক্ষেত্রে শুল্ক হার মুহিতের প্রস্তাব মতোই থাকছে।

বাজেট উপস্থাপনের পরপরই ভ্যাট আইনের সঙ্গে আবগারি শুল্ক নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। বাজেট ঘোষণার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে মুহিতের বক্তব্যে সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়ে। তিনি বলেছিলেন, ব্যাংকে যাদের এক লাখ টাকা রাখার সামর্থ্য আছে তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘সম্পদশালী বলেই’ বাজেটে তাদের উপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংসদে সরকারি দলের সদস্য এমনকি মন্ত্রীরাও ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক কমানোর দাবি জানান। অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও বাজেট আলোচনায় ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্কের হার কমানোর সুপারিশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন স্তর বিন্যাসের সুপারিশের পাশাপাশি আবগারি শুল্ক নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কথাও বলেন। তিনি বলেন, “পূর্বে এমন ছিল যে ২০ হাজার ১ টাকা হলেই আবগারি শুল্ক দিতে হত। মাননীয় অর্থমন্ত্রী এক লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ী হিসাবকে শুল্কমুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু সবাই বুঝেছে উল্টো এবং অপপ্রচার হয়েছে যে এক লাখ টাকা থাকলেই এক হাজার টাকা কাটা হবে। এটা মাননীয় অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করে দেবেন বলে আমি মনে করি। এই যে এক লাখ টাকা তিনি শুল্কমুক্ত করে দিয়েছেন, এই গরিব হিতৈষী প্রস্তাবের জন্য আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি যে এক লাখ এক টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত তিনটি স্তর করে দিয়ে তিনি যেন শুল্ক হার আর না বাড়ান। আমি আশা করি সেই ব্যবস্থা তিনি নেবেন এবং এটা ব্যাখ্যা করবেন সে সময় কত টাকা দিতে হতে এবং এখন তিনি তা কত কমিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ এক লাখ থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত  শুল্কহার, সেটাও কিন্তু তিনি কমিয়ে দিয়েছেন। কাজেই মনে হয় এটা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকবে না। কারণ এক লাখ এক টাকা থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত- যেটা আগে ৫০০ টাকা দিতে হত, এখন মাত্র দেড়শ টাকা কাটা হবে। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা যেটা ৮০০ টাকা করা হয়েছিল, সেটাকে ৫০০ টাকা করা হবে।”

এর পরপরই মুহিত তার সমাপনী বক্তব্যে তার প্রস্তাবিত বাজেটে আবগারি শুল্কসহ কিছু বিষয়ে সংশোধন আনেন।

সূত্র : বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

 

 

Comments

comments

Check Also

করোনা তহবিলে টাকা দেয়া শেরপুরের সেই ভিক্ষুক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : শেরপুরে কর্মহীনদের জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া ভিক্ষুক নজিম উদ্দিন …

করোনার মূল উৎপত্তি কোথায় জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস কোথা থেকে এসেছে তা প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে বিশ্ব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!