মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২২ ২০২০
Breaking News

১৫ বছরেও স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নেয়নি মঠবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী কালাম

স্টাফ রিপোর্টার : স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ না দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফেলে রেখে সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। ১৫ বছর ধরে তার স্ত্রী মরিয়ম আক্তার (২৯) এবং ছেলে অলিউল্লাহ (১৩) ও মেয়ে হাফসার(১১) কোনো খোঁজ-খবর নিচ্ছে না। এর আগে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ করবে, এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে দফায় দফায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। স্বামীর এমন প্রতারণার কবলে পড়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বড়শৌলা গ্রামের কৃষক শাহ আলম আকনের মেয়ে মরিয়ম আক্তার দুই সন্তান নিয়ে অতি কষ্টে বাবার বাড়িতে জীবনযাপন করে আসছেন।

প্রবাসী স্বামীর এমন প্রতারণার বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ ছাড়া মেয়ে ও দুই নাতিকে ফেলে রাখা এবং মিথ্যা আশ্বাসে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মরিয়মের বাবা মো. শাহ আলম প্রবাসী জামাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ আলম আকনের মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে ২০০২ সালে বরগুনার বামনা উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম ওরফে হাফেজ কালামের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই দম্পতির সংসারে  দুই সন্তান ছেলে অলিউল্লাহ ও মেয়ে হাফসার জন্ম হয়। কালাম বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী-সন্তানদের শ্বশুর বাড়িতে ফেলে রেখে এলাকায় কোরআন শিক্ষা আর ওয়াজ নছিহত করে বেড়াত। এরপর ২০০৬ সালে স্ত্রী-সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে রেখে মরিয়মের বাবার নিকট হতে অর্থ হাতিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে আর কোনো খোঁজ নেয়নি সে।

এদিকে মরিয়ম কৃষক বাবার আশ্রয়ে থেকে অতিকষ্টে দুই সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে আসছেন। শত দুরবস্থার মধ্যেও ছেলে অলিউল্লাহ নবম শ্রেণি ও মেয়ে হাফসা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে  বড় শৌলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে ও মেয়ে একই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তিলাভ করেছে।

এমন অবস্থার মধ্যে স্ত্রী ও  সন্তানের সাথে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০১৫ সালে মরিয়ম আক্তার তার স্বামী আবুল কালামের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। স্ত্রীর মামলায় আদালতের বিচারক অভিযুক্ত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু ধূর্ত কালাম গ্রেফতার এড়িয়ে রয়েছে। মাঝে মাঝে অতি গোপনে সে নাকি দেশে আসে তবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না। এমনকি প্রতারক কালাম আদালতেও হাজিরা দিচ্ছেন না।

অপরদিকে ওই মামলা দায়েরের পর কালাম তার স্ত্রী-সন্তানদের মর্যাদা দিয়ে বাড়িতে তুলে নেবে এমন আশ্বাস দিয়ে মরিয়মের বাবার নিকট অর্থ দাবি করে। এতে সে রাজি না হলে তার শ্যালক মো. সুমন আকনকে সৌদি আরবে কর্মসংস্থান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। মেয়ে ও দুই নাতির ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে শ্বশুর শাহ আলম তার সৌদি প্রবাসী জামাতা কালামকে দুই দফায় অর্থ প্রদান করেন। এরপর প্রতারক কালাম শ্বশুরবাড়ির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

স্বামী আবুল কালামের কাছে আর স্ত্রীর মর্যাদা চান না গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার। মরিয়ম বলেন, আমি কলেজে ভর্তি হয়েছি। পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তবে এ প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আমার দুই সন্তান ও আমার বাবার সমুদয় ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই।

নিরপরাধ দুই সন্তান অলিউল্লাহ ও হাফসা বলে, যে বাবা আমাদের অন্যায়ভাবে ফেলে রেখেছে তার বিচার চাই।

মরিয়মের বাবা শাহ আলম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার মেয়ের এমন ক্ষতি রোজ চোখের সামনে দেখছি এর জন্য বাবা হিসেবে আমি এখন অপরাধী। আমার জামাতা কালাম একটা বড় প্রতারক। সে একটা চরিত্রহীন মানুষ। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার-ইন-চার্জ (তদন্ত) মো. মাজহারুল আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করে  বলেন, আসামি সৌদি প্রবাসী। সে মামলার আগে থেকেই সৌদি আরবে অবস্থান করছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : ‘স্বাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ^ গড়ি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় …

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ক্যান্সারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!