রবিবার , সেপ্টেম্বর ২৭ ২০২০
Breaking News

১৫ই আগস্ট ভাবনা ও ২৬ সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় ঘৃণা দিবস’ ঘোষণার দাবি

মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ : বিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহাবীর, খাটি বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাঁর জন্ম না হলে পরাধীনতার গ্লানি হয়তো আজও বাঙালিকে সহ্য করতে হতো। সেই সিংহসম বজ্রকণ্ঠ লালিত বঙ্গবন্ধুকে যারা ৭৫-এর ১৫ই আগস্ট আত্মীয়-স্বজনসহ সপরিবারে হত্যা করেছে, সেই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, মনুষ্যরূপী দানব, বিশ্বাসঘাতক জানোয়ার, খুনিদের প্রতি অগ্নিসম ঘৃণা প্রকাশ করছি। এর চেয়ে নিচু কোনো ভাষা বা শব্দ জানা থাকলে তা ব্যবহার করতে কিঞ্চিৎ দ্বিধাবোধ করতাম না। যুগে যুগে পৃথিবীতে এমন কিছু গুণাবলিসম্পন্ন মানুষের জন্ম হয় যাঁরা মৃত্যুর পর রেখে যান তাঁদের বিশেষ আদর্শ লালিত মতাদর্শ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই নগণ্য সংখ্যার একজন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মের পূর্বে এদেশে হাতে গোনা কয়েকজন মহাপুরুষের জš§ হয়েছে ঠিকই কিন্তু দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করার উপযুক্ত সময়টি বঙ্গবন্ধুর জীবনকালেই এসেছিল। বঙ্গবন্ধুর জš§পূর্ব মহাপুরুষেরা স্বাধীনতার বহুধাপ এগিয়ে দিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার জন্ম না হলে হয়তো-বা স্বাধীনতা আরও পিছিয়ে যেত। পরাধীনতার গ্লানি আরও কত যুগ বাঙালিকে সহ্য করতে হতো তার হিসেব কষা খুবই কঠিন। বাল্যকাল থেকে নীতি আর আদর্শের জন্য সারাজীবন যে মানুষটি জীবনের সোনালি দিনগুলো বিসর্জন দিয়ে, সুখ-শান্তি, পরিবার-পরিজন ত্যাগ করে মানুষের কল্যাণের জন্য বাংলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন। জীবনের সোনালি দিনগুলো জেলে কাটিয়েছেন। অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসা, বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় রাজনীতি শেখা সমুদ্রসম হƒদয়ের অধিকারী সেই তুলনাহীন মহাবীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তদুপরি বাংলার মুজিবভক্ত, মুজিবপ্রেমী সৈনিকদের দাবাতে পারেনি। সীমাহীন মহানুভবতা, বন্ধুবৎসলতার অধিকারী বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে একবার যিনি আসতেন তিনি বঙ্গবন্ধুর মধুর আকর্ষণীয় ব্যবহারে তাঁকে আর ভুলতে পারতেন না। বঙ্গবন্ধু পরিস্থিতি বুঝে মানুষের মনের কথা বলতে পারতেন। মানুষকে বোঝার জন্য তীক্ষè অন্তর্দৃষ্টি তাকে খুব সাবলীল করে তুলেছে। সাংগঠনিক গুরুগম্ভীর আভিজাত্যপূর্ণ বাচন-ভঙ্গির কারনে বঙ্গবন্ধু দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রশংসিত হয়েছেন অসংখ্যবার। দেশি-বিদেশি অগণিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বহু জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক-লেখক, সরকারি মুখপাত্রদের সাথে আলাপচারিতায় বঙ্গবন্ধুর শারীরিক ভাষায় বিশেষ এক ধরনের মোহনীয় পাণ্ডিত্যপূর্ণ গভীর ভাব ফুটে উঠত। যে কারণে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন ও বঙ্গবন্ধুকে আপন করে নিতে পারতেন। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘সাড়ে পাঁচ কোটি পূর্ব পাকিস্তানির ভালোবাসাকে সম্বল করে আমি এ কাজে যে কোনো ত্যাগের জন্য প্রস্তুত আছি। আমার দেশবাসীর কল্যাণের কাছে আমার মতো নগণ্য ব্যক্তির জীবনের মূল্যই বা কতটুকু?’ কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজকাল আমাদের নেতৃত্বের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষকে আপন করে নেওয়ার প্রতিকূল পরিবেশ বর্তমান। বিশ্বের ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রনায়ককে সপরিবারে হত্যার ঘটনা বিরল। এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছিল তারা চেয়েছে বঙ্গবন্ধুর কল্যাণমুখী মতাদর্শ বাংলার মাটি থেকে মুলোৎপাটন করে দিতে। আর সে কারণে অবুঝ শিশু শেখ রাসেলকেও তারা রেহাই দেয়নি। জাতির পিতা জীবনের চেয়েও ভালোবাসতেন এদেশের মানুষকে। আর বিশ্বাস করতেন পর্বতসম। এই বিশ্বাসই একসময় তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরেরা বুলেটে বিদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু নামের প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতবিক্ষত করতে কার্পণ্য করেনি। ৭৫-এর ১৫ই আগস্ট বীর পিতা বাঙালি জাতিসত্তার রূপকার, সোনার বাংলার স্থপতি, জুলিও কুরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বরণের পরে বাঙলার মুজিবভক্ত সৈনিকেরা পিতাকে হƒদয়ের গহিনে স্থান দিয়েছে। বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার বিধান থাকা সত্ত্বেও জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ২৬শে সেপ্টেম্বর এক সামরিক অধ্যাদেশ (ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স) নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে যুক্ত করে এর পবিত্রতা নষ্ট করেন। খুনিদের দেশ-বিদেশে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করেন। অথচ বঙ্গবন্ধুই জেনারেল জিয়াউর রহমানের পারিবারিক জটিল ঝামেলা নিজ দায়িত্বে মীমাংসা করে জিয়াউর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে সম্মানিত করেন যা দেশবাসীর অজানা নয়।

জোছনার আকাশে অসংখ্য তারার সমাবেশ থাকলেও চাঁদের মতো একটিও নেই। তেমনি বাংলার প্রান্তরে অসংখ্য মানুষ থাকলেও যুগোপযোগী বঙ্গবন্ধুই অদ্বিতীয়। আর এই অদ্বিতীয় বীর পিতার খুনিদের রক্ষার জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর কুখ্যাত কালো আইন যুক্ত করায় দিনটিকে সরকারিভাবে ‘ঘৃণা দিবস’ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। ২৬ সেপ্টেম্বর ঘৃণা দিবস ঘোষণা হলে আমরা সামান্য হলেও কিছুটা দায় এড়াতে পারব। উক্ত দিনটি ‘ঘৃণা দিবস’ ঘোষণায় আওয়াজ তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান রইল।

লেখক : শিক্ষক, মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজ ও

সংবাদকর্মী, প্রেস ক্লাব, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।

 

Comments

comments

Check Also

স্বাগত ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এসো হে বৈশাখ, এসো, এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে …

স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা –  নূর হোসাইন মোল্লা 

নূর হোসাইন মোল্লা : অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের মার্চ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!