শনিবার , জুলাই ১১ ২০২০
Breaking News

সেপ্টেম্বরে দৃশ্যমান হতে পারে পদ্মা সেতু

ডেস্ক রিপোর্ট : গত বছরের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে দুটি পিলারের মধ্যে একটি স্প্যান (স্টিলের কাঠামো) বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কয়েক দফা সময় পিছিয়ে সর্বশেষ আগস্টে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে তাও সম্ভব হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই স্প্যান বসানোর পর দৃশ্যমান হতে পারে পদ্মা সেতু।

হ্যামার সঙ্কট এবং বর্ষার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জার্মানি থেকে আরও দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোলিক হ্যামার (হাতুড়ি) এসে পৌঁছবে। হ্যামার দুটি এলে শুকনো মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে গতি আরও বাড়ানো যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে দেশি-বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীরা এগিয়ে নিচ্ছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মহাযজ্ঞ। তদারকি করছে সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। কারিগরি দিক তদারকির জন্য রয়েছে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল। ১১ সদস্যের এই প্যানেলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও কলম্বিয়ার সেতু বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৪৪ শতাংশ। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫৫ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন প্রকৌশলী সকালের খবরকে জানান, এমনিতেই বর্ষায় দুর্দান্ত পদ্মায় স্বাভাবিক গতিতে কাজ করা যায় না। তবে কাজের গতি কিছুটা কমে যাওয়ার মূল কারণ হল হ্যামার। এই হ্যামার দিয়েই মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনটি হ্যামার রয়েছে। এর মধ্যে জার্মানি থেকে আনা ২৪০০ কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারটি বর্তমানে সচল। নেদারল্যান্ডস থেকে আনা দুটো হ্যামারের একটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্যটি মেরামত করে কাজে লাগাতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় মাস। পর্যাপ্ত হ্যামার না থাকার কারণে পুরোদমে পাইলিংয়ের কাজ করা যাচ্ছে না। তবে আশার কথা হল, জার্মানি থেকে আরও দুটো হ্যামার আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৯০০ কিলোজুল ক্ষমতার একটি হ্যামার আসবে ১০ আগস্টের মধ্যে। ৩৫০০ কিলোজুল ক্ষমতার অন্যটির পৌঁছানোর কথা রয়েছে সেপ্টেম্বর নাগাদ।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পদ্মা সেতুতে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নতমানের উচ্চ ক্ষমতার হ্যামার ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় হ্যামারগুলোতে প্রায়ই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব হ্যামার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই তৈরি থাকে না। অর্ডার দেওয়ার পর তারা তা তৈরি করে। এরপর নৌপথে দেশে আনাসহ সব মিলিয়ে ৯ থেকে ১০ মাস লেগে যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দুটি হ্যামার এলে কাজে গতি আসবে। হ্যামারের কারণে আগে কাজের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

অন্যদিকে নদীর তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্র্যের কারণে পদ্মা সেতুর পাইলের দৈর্ঘ্য কত হবে, তা নির্ধারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, মূল নকশায় মাটির নিচে ৯০ থেকে ১২৮ মিটার গভীর পর্যন্ত পাইল বসানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পাইল বসাতে গিয়ে দেখা যায়, ১৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত শক্ত মাটি বা পাথরের স্তর নেই। মোট ২৪০টি পাইলের মধ্যে মাত্র ১৪টির ক্ষেত্রে এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ দল।

জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক পরামর্শক দলের প্রধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী সকালের খবরকে বলেন, পদ্মা সেতুতে ১২৮ মিটার গভীরতার জন্য পিলার স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্বে কোনো সেতুতে এত গভীর পাইল করতে হয়নি। তিনি বলেন, কয়েকটা পাইলের গভীরতা কমিয়ে এর সংখ্যা বাড়ানোর কথা চিন্তা করা হচ্ছে। এর বাইরেও বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। এ জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় বাড়বে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম সকালের খবরকে বলেন, ১৪টি পাইলের নকশা নতুন করে করা হচ্ছে। আশা করছি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সেটা হাতে পাব। বর্ষায় এ ধরনের কাজ কম হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা অনেক অ্যাডভান্স (এগিয়ে)। আবার কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে। শুকনো মৌসুমে কাজের গতি আরও বাড়িয়ে যেসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি সেটা সমন্বয় করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইনশাল্লাহ ২০১৮ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে।

নতুন নকশার কারণে ব্যয় বাড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে। নকশা করার পর এটা বলা যাবে। হয়তো ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা কমবেশি হতে পারে। এত বড় প্রকল্পে এই টাকা কোনো প্রভাব ফেলবে না।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, মূল সেতুতে ৪২টি খুঁটি বা পিলার হবে। আর এসব খুঁটির নিচে ২৪০টি পাইল বসাতে হবে। ইতোমধ্যে ৬৪টি পাইল পুরোপুরি বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে ৩৪টির। আর দুটি (৩৭ ও ৩৮ নম্বর) পাইলের ঢালাই শেষে ওপরে ক্যাপ বসানো হয়েছে। এর সঙ্গে আরও ১২টি পাইলের কাজ চলমান রয়েছে। ভায়াডাক্টের জন্য মোট ৩৬৫টি পাইল করতে হবে। যার মধ্যে শেষ হয়েছে ১৩৬টি।

পদ্মা সেতুর কাজ পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মূল সেতু ও নদীশাসন হচ্ছে বড় দুটি কাজ। এর বাইরে দুই পারে সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজা নির্মাণ এবং অফিস ও বাসাসহ নির্মাণ অবকাঠামোর কাজ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মূল সেতুর কাজ ৪১ শতাংশ ও নদীশাসনের কাজ হয়েছে ৩৩ শতাংশ। মাওয়ায় এরই মধ্যে চার লেনের সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ শেষ হয়েছে। জাজিরায় শেষ হয়েছে চার লেনের সংযোগ সড়কের কাজ, টোল প্লাজা নির্মাণও শেষের দিকে।

পদ্মা সেতুর স্প্যানের অংশ চীনে তৈরি হয়। মাওয়ার নির্মাণমাঠে এনে টুকরোগুলো জোড়া দিয়ে ১৫০ মিটারের স্প্যান তৈরি করা হয়। বর্তমানে এমন ৫টি স্প্যান একেবারে খুঁটিতে বসানোর মতো প্রস্তুত হয়ে আছে। বাকি ৩টি স্প্যান তৈরির কাজ চলছে। আর চীনে আরও ১২টি স্প্যানের অংশ তৈরি হয়ে শিপমেন্টের অপেক্ষায় আছে। বাকিগুলোও তৈরির কাজ চলছে সেখানে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দ্বিতল এই সেতুটি হবে স্টিলের। আর পিলার কংক্রিটের। নিচ দিয়ে রেল, আর ওপরে পিচঢালা পথ দিয়ে চলবে যানবাহন। ২০১৮ সালের শেষদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই পদ্মা সেতু চালু করতে চায় সরকার। [সূত্র : সকালের খবর]

 

Comments

comments

Check Also

করোনার মূল উৎপত্তি কোথায় জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস কোথা থেকে এসেছে তা প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে বিশ্ব …

করোনাভাইরাস : বাংলাদেশে ছুটি বাড়ছে ২ মে পর্যন্ত

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশে সাধারণ ছুটির সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!