সোমবার , সেপ্টেম্বর ২১ ২০২০
Breaking News

মঠবাড়িয়ায় বড়মাছুয়া খেয়াঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদের বড়মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়া ঘাটটি যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে নির্ধারিত টোলের চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে ইজারাদার ও তার লোকজন ৮/১০ গুণ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে ইজারাদার ও তার লোকজন যাত্রীদের নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি, দূর্ব্যবহার এমনকি ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার ঘটনায় ওই খেয়ায় চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেও কোন সাড়া মিলছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ফলে ইজারাদার ও আদায়কারীদের অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাগেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে বাংলা ১৪২৫ সালের জন্য বড়মাছুয়া আন্তঃবিভাগীয় খেয়া ঘাটটি ২২লাখ ৩২হাজার ৭শ’৮০ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইউ,পি সদস্য কাইয়ূম হাওলাদার ইজারা বন্দোবস্থ পায়। ওই টাকার মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাটসহ ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩শ’৩৬ টাকায় (১৫% মূল্য সংযোজন কর ও ৫%আয়করসহ আরো ৪লাখ ৪৬হাজার টাকা) ঘাট ইজারা নিয়েই ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ও স্থানীয় এক প্রভাশালী নেতার নির্দেশে বহির্ভূত ভাবে ইজারাদার কাইয়ুম ঘাটটি প্রকাশ্যে ডাক দিয়ে সাব লিজ দেয়।
সম্প্রতি বড়মাছুয়া খেয়া ঘাটে সরজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারী চাকুরীজীবি সামসুল হক মৃধা, মৎস্য আড়ৎদার ফারুক তালুকদারসহ একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, খেয়াঘাট সাব লীজ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান,আবুল কালাম আজাদ, ইদ্রিস বেপারী, আঃ ছালাম হাওলাদার ও ডালিম ফিডারের কাছে ১০লাখ ৮৫ হাজার টাকা লাভে প্রকাশ্যে সাব লীজ দেয়।
বড়মাছুয়া ইউপি সদস্য সলেমান জানান, তিনি নিজেও সাব লীজে অংশ নিলেও দর কম দেয়ায় খলিলুর রহমান ৩৬লাখ ৮৫ হাজার টাকায় ইজারা পায়। সাব-লীজ গ্রহিতারা ঘাট থেকে তাদের ব্যবসার জন্য সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে কয়েক গুণ টাকা বেশি আদায় করছে। যার ফলে অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে খেয়া ওঠানামাকারী অনেক গরীব অসহায়সহ সাধারণ যাত্রীদের। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের নিয়ম না থাকলেও তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টোল।
বলেশ্বর নদীর দু’পাড় উপকূলীয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দায় এ খেয়াঘাট অবস্থিত ফেরী পাড়াপাড় বা সড়ক বা বিকল্প পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় এ খেয়া ঘাট থেকে প্রতিদিন খুলনা, মংলা, চালনা, বাগেরহাট, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, বরগুনা, পাথরঘাটা, বামনা ও মঠবাড়িয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহ¯্রাধীক মানুষ যাতায়াত করে।
স্থানীয় জানখালী গ্রামের হতদরিদ্র জেলে জলিল শেখ অভিযোগ করেন গত ১৬ জুলাই তিনি রায়েন্দা থেকে খেয়াযোগে বড়মাছুয়া আসার পর সাবলীজ গ্রহণকারী সালাম বেপারী তার কাছ থেকে ৪০ টাকা খেয়া ভাড়া চায়।এসময় তার কাছে বাড়তি টাকা না থাকায় ২০ টাকা দিলে টোল আদায়কারী তার সাথে দুর্ব্যবহার করে লঞ্চ পল্টনে তাকে ৩ ঘন্টা বসিয়ে রাখে। পরে স্থানীয় আবু হানিফ নামে এক ব্যক্তি তাকে ছাড়িয়ে নেয়। তিনি বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন বলে জানান।
সরজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, খেয়া পারাপারে সরকার নির্ধারিত টোল জনপ্রতি ৫ টাকার স্থলে ৪৫ টাকা এবং মটরসাইকেল চালকসহ ১০ টাকার স্থলে ইজারাদারের লোকজন (চালক ৪০ টাকা ও মটর সাইকেল ৬০/৭০ টাকা আদায় করে) মোট ১শ থেকে ১’শ ১০ করে আদায় করছে। ওঠানামাকারী যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায়ের সুবিধার্থে বলেশ্বরের দু’পাড় বড়মাছুয়া ও রায়েন্দা ঘাট সংলগ্ন প্রকাশ্যে টোল চার্ট বোর্ড টানিয়ে নির্ধারিত টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এছাড়াও লীজ গ্রহনকারী ইজারাদারের ঘাট নির্মান ও সংরক্ষনের নিয়ম থাকলেও নিজস্ব ঘাট না থাকায় বড়মাছুয়া ও রায়েন্দার সরকারী পল্টন ব্যবহার করায় খেয়ার প্রতি যাত্রীকে অতিরিক্ত ৫ টাকা গুনতে হচ্ছে।
বড়মাছুয়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী শাহিন খন্দকার (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করে আসছেন। মাছ সংরক্ষণের জন্য শরণখোলা থেকে ১’শ টাকায় ক্রয় করা একপিচ বরফে খেয়ায় গুণতে হয় দেড়’শ টাকা। যা বিগত দিনে কোন ইজারাদারদের দিতে হয়নি। এনিয়ে বর্তমান ঘাটের ইজারাদারদের সাথে বাকবিন্ডায় তিনি গত একমাস ধরে বরফ আনা বন্ধ করে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বরগুনা সদরের বাসিন্দা মংলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি গত এক বছর ধরে মংলা থানায় চাকুরীর সুবাদে ওই খেয়ায় মটরসাইকেলসহ পার হয়ে থাকেন। তিনি নিজের ভাড়া ৪০ এবং মটরসাইকেলের জন্য ৬০ টাকা করে মোট ১’শ টাকা ইজারদারকে প্রদান করেন।
শরণখোলা উপজেলার খেয়াপারাপাকারী ফাহিমা বেগম, মঠবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা হারুন খন্দকারের স্ত্রী পুতুল বেগম জানান, অতিরক্তি টাকা না দিলে নারীদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে ।
ঘাট ইজারাদার ও বড়মাছুয়া ইউপি সদস্য কাইয়ুম হাওলাদার তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিঘ্রই খেয়াঘাট সংলগ্ন টোল চার্ট টানানো হবে।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আহাম্মদ ছিদ্দিকী বলেন, খেয়া পারাপারকারী যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Comments

comments

Check Also

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ক্যান্সারে …

গভীর রাতে গোয়াল ঘরে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে গরুসহ গোয়াল ঘর পুড়ে ছাই

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ভেচকী গ্রামে রোববার রাতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে গরু ব্যবসায়ী আব্দুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!