রবিবার , সেপ্টেম্বর ২৭ ২০২০
Breaking News

মঠবাড়িয়ায় চলছে অবৈধ নসিমন, করিমন, ভটভটি : বাড়ছে দুর্ঘটনা

এস.এম. আকাশ : চালকদের নেই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে নেই বিন্দুমাত্র ধারণা। রয়েছে দুর্বল ব্রেক আর স্টিয়ারিং। নেই হর্ন, সংকেত বাতি। নেই কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মঠবাড়িয়া পৌর শহরসহ গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে নসিমন, করিমন, ভটভটি এবং ব্যাটারিচালিত ভ্যান। বেপরোয়া গতিতে এসব যান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিটি অলিগলি। সাধারণ মানুষ তো বটেই, প্রশাসনের লোকজনও নিজেদের যাতায়াতে ব্যবহার করছেন এসব যান। আর এ কারণে অনেকেই জীবিকা খুঁজে পেলেও আনাড়ি চালকরা দ্রুতগতিতে এ যান মহাসড়কে চালাতে গিয়ে প্রায়শই ঘটাচ্ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার। ফলে পঙ্গুত্বসহ নিহতের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।

ওয়ার্কশপে শ্যালো ইঞ্জিনের সঙ্গে কাঠের তৈরি বডি জুড়ে দিয়ে তৈরি হচ্ছে নসিমন, করিমন, ভটভটি এবং ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান। রয়েছে নির্মাণজনিত ত্রুটি। এসব ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের ফলে রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ বিদ্যুত্ ঘাটতি। তা ছাড়া এসব যানের কালো ধোঁয়া দূষিত করছে পরিবেশ। তবে এসব যান চলাচলের বিরুদ্ধে রয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা। আর এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, পুলিশের অনমনীয়তায় প্রতিদিন নতুন নতুন যান দখল করে নিচ্ছে সড়ক, মহাসড়কসহ শহরের অলিগলি। ফলে প্রাতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

নসিমন চালক জালাল জানান, ৯৩ হাজার টাকায় শ্যালো মেশিনের নসিমন বানিয়েছি। মহাসড়কে ঝুঁকি থাকলেও আয় বেশি হওয়ায় এতে সংসার বেশ ভালোই চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান, এজন্য তাদের প্রতিদিন স্থানীয় নেতাদেরসহ ট্রাফিক পুলিশ ও পৌর শহরে চাঁদাসহ টোল দিতে হয়।

যাত্রী সোবাহান মিয়া জানান, বড় গাড়ির অপেক্ষা না করে তাড়াতাড়ি গন্তব্যে ফিরতে নসিমনের যাত্রী হয়েছেন। বাসচালক আনসার মিয়া জানান, এসব যান ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ও মালামাল বহন করে। ফলে মাঝে মধ্যেই রাস্তার ওপর বিকল হয়ে পড়ে। এতে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর হোসাইন মোল্লা বলেন, এই যান চলাচলে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। এর কালো ধোঁয়া পরিবেশকে দূষিত করছে। অবৈধ এ বাহনগুলো প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানিও ঘটছে।

পিরোজপুর বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান মহারজ জানান, ধীরগতির এসব যানবাহনে মহাসড়কে পরিবহনের গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বাস-ট্রাক কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারছে না। ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় লাগছে। পিরোজপুর জেলায় যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার প্রায় সবই অবৈধ এ যানবাহনগুলোর কারণে ঘটছে। ধর্মঘট, অবরোধ করেও অবৈধ এসব যান চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। অদৃশ্য শক্তির বলে সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়ায় নসিমন, করিমন ও ভটভটি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা পেলে আমরা এক দিনে স্যালো ইঞ্জিনচালিত যান চলাচল বন্ধ করতে পারি।

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মালেক সিকদার (৪৮) নামে …

বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টারঃ  বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার রবিউল ইসলাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!