মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২২ ২০২০
Breaking News
SONY DSC

মঠবাড়িয়ায় অপহরণের পরদিন বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পরদিন সোমবার গভীর রাতে ওয়ার্ড বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকের পাশে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার (৫৮) এর লাশ রাত সারে এগারোটায় দেখতে পেয়ে এলাবাসী পুলিশে খবর দেয়। নিহত হাবিব তালুকদার উদয়তাঁরা বুড়িরচর গ্রামের মৃত ছত্তার তালুকদারের ছেলে। উদ্ধার কৃত লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ উদ্ধারের পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ইউপি নির্বাচনী জের, দীর্ঘ দিনের পারিবারিক বিরোধ, তুষখালী লঞ্চঘাটের আধিপাত্য নিয়ে ইউপি সদস্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস তালুকদার ও একই গোষ্ঠীর হাবিব তালুকদারের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার হাবিব তালুকদারের ছেলে স্কুল ছাত্র রাকিবের সাথে প্রতিপক্ষ ফারুক তালুকদারের ছেলে সাইফুলের ফুটবল খেলা নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইদ্রিস তালুকদারের পুত্র রাজীব, তার সহযোগী সাইফুল তুষখালী বাজারের সাপ্তাহিক হাটের দিনে গত রবিবার হাবিব তালুকদারকে প্রকাশ্যে মারধর করে। এ সময়ে নিহত হাবিবের ছেলে কলেজ ছাত্র হাফিজুর ও স্কুল ছাত্র রাকিব পিতাকে বাঁচাতে এলে রাজিব ও সাইফুলের দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করলে দুই ভাই পার্শবর্তী এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনার সময় হাবিব তালুকদার অপহৃত হয়।
নিহতের ভাই স্বপন তালুকদার অভিযোগ করেন, রবিবার দুপুরে ভাই হাবিবকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুন তালুকদারের নির্দেশে ইউপি সদস্য ইদ্রিস তালুকদার ও তার পুত্র রাজিব, রুম্মান, সহযোগী সাইফুল, জুয়েলসহ ১৫-২০ জনের দুর্বৃত্তরা তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে নিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে যায়।
নিহতের স্ত্রী মালেকা বেগম (৫০) কান্নাজড়িত কন্ঠে অভিযোগ করে বলেন, স্বামীর খোঁজ না পেয়ে রবিবার বিকেলে মঠবাড়িয়া থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ ডায়েরী নেয়নি। পরে সারাদিন গরিমসি করে রাতে জিডি নেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর-রশিদ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই পক্ষই আমার আত্মিয়। কে বা কার খুন করে আমাদের উপর দায় চাপাচ্ছে। আমি খুনের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবী জানাই।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম জিডি না নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেন মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, বিএনপি নেতা খুনের সাথে যারা জড়িত তারা যতই প্রভাবশালী হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : ‘স্বাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ^ গড়ি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় …

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ক্যান্সারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!