বুধবার , সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২০
Breaking News

মঠবাড়িয়ায় সাত ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ছাড়াই এডিপির প্রকল্পের অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ও রাজস্ব তহবিলের অর্থ বিভাজনের জরুরি সভা সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ১১ ইউপি চেয়ারম্যানের ৪ জন রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর করলেও বাকি সাত চেয়ারম্যান স্বাক্ষর দিতে  বিরত থাকেন। ফলে ওই বাছাই কমিটির সদস্য সাত চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়াই চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ও রাজস্ব তহবিলের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের  অনুমোদন দেয়া হয়। এসময় ওই সভা থেকে সাত ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

সোমবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ও রাজস্ব তহবিলের অর্থ বিভাজনের সভা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকা গুলিসাখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো জানান, সভায় উপস্থিত হওয়ার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাছাই কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুর রহমানের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিন রেজুলেশন বহিতে সভায় উপস্থিত সকলের স্বাক্ষর নেয়া শুরু করেন। এসময় ১১ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষরের আগে এডিপি ও রাজস্ব খাতের অর্থের বিভাজন নিয়ে বিধি মোতাবেক আলোচনা করার আহবান জানান। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, যারা রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর করবেন না তারা সভায় উপস্থিত হয়ে মতামত দেয়া সমীচীন হবে না। এ নিয়ে পরিষদের সভায় ইউপি চেয়রম্যান ও উপজেলা চেয়রম্যানের বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে বাছাই  কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে  ২ সদস্য অনুপস্থিত ও প্রকল্প বাছাই কমিটির সদস্য সাত ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষর না করায় বাকি ১০ সদস্যে সর্ব সম্মতিক্রতে এডিপির গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প পাস হয়।

সাত জন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। ইউপি সদস্যরা কমিটির সদস্য। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকল্প বাছাই কমিটির কোন সভা না করে ইচ্ছেমত প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে দুই লাখ টাকার নিচের প্রকল্প জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশ থাকলেও ছোট ছোট প্রকল্প একীভূত করে প্যাকেজ দরপত্র আহবান করেন তিনি। উপজেলা ভূমি উন্নয়ন করের শতকরা দুই ভাগ টাকা উপজেলা সমন্নয় সভায় উপস্থাপন ছাড়াই ইচ্ছা মত ব্যয় করে থাকেন উপজেলা চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদের কাবিখা, টিআরের কর্তনকৃত অর্থ, চাল, গম হতে প্রকল্প গ্রহণে উপজেলা সমন্নয় সভায় উপস্থাপন ছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পছন্দমত ব্যাক্তিকে বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। এ ঘটনায় উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তারসহ আট জন ইউপি চেয়ারম্যানের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সচিবের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের পিরোজপুরের উপপরিচালক কাজী তোফায়েল হোসেনের তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গতকাল সোমবার সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাঁর নেয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সভা ডেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিন জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের বের করে দেয়ার যে গুজব উঠেছে তা মিথ্যে। মূলত সভায় ইউপি চেয়রম্যানরা উপস্থিত থাকবেন কিন্তু রেজুলেশনে স্বাক্ষর করবেন না এটা হতে পারে না। এনিয়ে উপজেলা চেয়রম্যান আপত্তি দিলে সাত চেয়ারম্যান সভা ত্যাগ করে।

প্রকল্প বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান তার বিরুদ্ধে সাত চেয়ারম্যানের আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে  জানান, সাত চেয়ারম্যান সভায় উপস্থিত থাকলেও রেজুলেশন বহিতে খামখেয়ালীভাবে স্বাক্ষর না করলে আমি এর প্রতিবাদ করি।

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মালেক সিকদার (৪৮) নামে …

বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টারঃ  বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার রবিউল ইসলাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!