মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২২ ২০২০
Breaking News
রাস্তা উপচে আসা অমাবস্যার জোয়ারের পানি থেকে বাড়িঘর রক্ষার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে একটি পরিবার। সোমবার মঠবাড়িয়া উপজেলার ওয়াহেদাবাদা গ্রামের মিরুখালী-ধানীসাফা সড়ক থেকে তোলা ছবি।

ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে মঠবাড়িয়ায় তলিয়ে গেছে আমন বীজতলা ও মাছের ঘের

আবদুল হালিম দুলাল : অমবস্যায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং গত কয়েকদিনের অবিরাম ভারি বর্ষণে মঠবাড়িয়া উপজেলার আমনের বীজতলা, মছের ঘের এবং নিম্নাঞ্চল এক থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে আগামী আমন আবাদ এবং ঘেরের মাছের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙিনা এবং রবিশস্যের ক্ষেতও পানির নিচে তলিয়ে আছে।

জানা গেছে, ভারি বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে বলেশ্বর-তীরবর্তী তুষখালী, বড়মাছুয়া, বেতমোড় রাজপাড়া ও সাপলেজা ইউনিয়নসহ মিরুখালী, গুলিশাখালী ও ধানীসাফা ইউনিয়নের অধিকাংশ আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ্বর-তীরবর্তী কচুবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফরহাদ জানান, তার প্রায় ৭০ শতাংশ আমনের বীজতলা এক থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি আর তিন-চার দিন থাকলে বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। বীজ নষ্ট হলে আমন আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি জানান।

মিরুখালী ইউনিয়নের ছোটশৌলা গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ জালাল খান জানান, তার প্রায় এক একর জমির বীজতলাসহ পার্শ্ববর্তী বাঁশবুনিয়া, বড়শৌলা ও দেবীপুর গ্রামের অধিকাংশ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী উপজেলায় প্রায় ১৪শ’ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগই স্থানীয় জাতের ধানের বীজতলা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত আড়াইশ’ হেক্টর বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বীজের মাথা পানির উপর থাকলে এবং অল্প দিনে পানি নেমে গেলে বীজের কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান।

এদিকে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের সাপলেজা গ্রামের মত্স্য ঘেরের মালিক মোঃ মোবারক হাওলাদার জানান, তার প্রায় ৭ একর জমিতে ৫টি মাছের ঘেরে ১০ লাখ টাকার মাছ আছে। ঘেরের সীমনা বাঁধ ছুঁই ছুঁই পানিতে অর্ধলাখ টাকার মাছ ভেসে পেছে। পানি আরও বাড়লে ঘেরের মাছ রাখা যাবে না বলে তিনি জানান। মোবারক হাওলাদার আরও জানান, গত বছর পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় ব্যাংক ও এনজিওসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট তিনি ৭ লাখ টাকা ঋণী আছেন। এ বছরও পানিতে মাছের ঘের ডুবে গেলে তার পথে বসতে হবে। এই দুঃসময়ে উপজেলা মত্স্য অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : ‘স্বাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ^ গড়ি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় …

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ক্যান্সারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!