শুক্রবার , আগস্ট ৭ ২০২০
Breaking News

বেড়েই চলেছে মঠবাড়িয়ার কালীপ্রতিমার উচ্চতা : এবারে ৯০ ফুট

মো. শাহাদাৎ হোসেন : পিরোজপুররের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মঠবাড়িয়া গ্রামের নির্মল চাঁদ ঠাকুরের বাড়িতে ৯০ ফুট উচ্চতার বড়দা কালীপ্রতিমার পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সরস্বতী পূজার আগের রাত থেকে ৫ দিনব্যাপী এ বড়দা কালীপূজা ও ও সরস্বতী মায়ের উৎসব ঘিরে দেশের দূর দূরান্ত হতে লক্ষাধিক মানুষের পদচারণা ঘটবে।
বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ বিশালাকৃতির কালীপ্রতিমার পূজা অনুষ্ঠান আগামী রোববার শেষ হবে।
মন্দিরের সেবায়েত শ্রী সন্তোষ মিস্ত্রী জানান, ৩০ বছর ধরে প্রতিবছর সরস্বতী পূজার একদিন আগে এ ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা শুরু হয়ে টানা ৫ দিন উৎসব চলে। ১৯৯০ সালে তিন ফুট উচ্চতার কালীপ্রতিমা দিয়ে এ মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা শুরু হয়। প্রতিবছর প্রতিমার উচ্চতা বাড়তে বাড়তে এবার ৯০ ফুটের প্রতিমা নির্মিত হয়। এ ছাড়া ৯৫ ফুট লম্বা মহাদেব প্রতিমাও নির্মাণ করা হয়েছে। এ বড়দা কালীপূজা উৎসব ঘিরে উৎসবস্থলে মেলাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কালীপূজার আয়োজক হরি চাঁদ ঠাকুর মন্দিরের ধামকর্তা শ্রী নির্মল চন্দ্র চাঁদ ঠাকুর জানান, ৩০ বছর ধরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একবার গ্রামে জলবসন্ত মহামারী আকারে দেখা দেয়। এ সময় গাঁয়ের মানুষ এ রোগে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানিও ঘটে। হরি মন্দিরের সেবায়েত স্বপ্নে কালীপূজা দেওয়ার জন্য নির্দেশ পান। এরপর কালীপূজার আয়োজন করা হয়। এ পূজার প্রসাদ খেয়ে সেদিন জলবসন্তের মহামারী থেকে গ্রামবাসী আরোগ্য লাভ করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর গাঁয়ের মানুষের সকল বালা মুছিবত রোগ শোক দূর করতে এ কালীপূজার আয়োজন চলে আসছে। তিনি আরও জানান, এ পূজায় ভক্তরা সহযোগিতা করে ৫ দিনের উৎসব পালন করে। প্রতিবছর প্রতিমা আকারে বড় করা হয়। এবার ৯০ ফুট উচ্চতার কালীপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৮৪ ফুট। পূজায় সংকটাপন্ন মানুষের নানা মানত দিয়েই এ আয়োজন চলছে। সপ্তাহ ধরে এখানে অব্যাহতভাবে কবিগান, মন্ত্রপাঠ ও শ্যামা সঙ্গীত অনুষ্ঠানসহ প্রসাদ বিতরণ করা হয়। তিনি আরও জানান ৩০ জন গুণরাজ (প্রতিমা শিল্পী) আড়াই মাস ধরে এ বিশালাকৃতির প্রতিমা নির্মাণ করেছেন। এতে ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। এ কালীপ্রতিমা বিশালাকৃতির প্রতিমা কেবল একটি সম্প্রদায়ের উৎসব হিসেবে নয় অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষরাও এ মাঙ্গলিক উৎসবে সমবেত হয়। জীবনের যাবতীয় সংকট থেকে মুক্তির আশায় এখানে সবাই আসে।
প্রতিমার প্রধান কারিগর বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ভাস্কর নিত্যানন্দ হালদার জানান, তিনি গত ১৭ বছর ধরে প্রতিবছর এখানে এ কালীপ্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন। এবছর তিনি ৯০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এশিয়ার মধ্যে এত বড় উচ্চতার কালী প্রতিমার পূজার আয়োজন করা হয় কিনা আমাদের জানানেই। এ প্রতিমা নির্মাণে বাঁশ, নলের কঞ্চি, মাটি, কাঠের গুঁড়ি ও খড় ব্যবহার করা হয়েছে ।
মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম ফারুক হাসান বলেন, এতবড় কালীপ্রতিমা আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। সম্ভবত এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কালীপ্রতিমা। এ পূজা ঘিরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এছাড়া এ প্রতিমা মানুষ দর্শনের জন্য আসছে বিদেশিরাও।

Comments

comments

Check Also

‘স্যার আমি প্রস্তুত’

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : দেশের যেকোনো দুর্যোগে সবার মতো এগিয়ে আসে পুলিশও। দেশের চলমান এই …

মঠবাড়িয়ায় বাসাভাড়া মওকুফ করলেন এক আওয়ামী লীগ নেতা

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার একটি কলোনির বাসিন্দাদের চলতি মার্চ মাসের বাড়িভাড়া মওকুফ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!