মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ২২ ২০২০
Breaking News

বিদেশে যাবার টাকা না দেয়ায় মঠবাড়িয়ায় গৃবধূর ওপর নির্দয় নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টার : বিদেশে যাবার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে তিন দিন আটকে রেখে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতনের শিকার মিতু আক্তার (১৯) উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে। নির্যাতনের পর মিতুকে হাসপাতালে না নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশীর কথা বলে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে মিতুকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা। দুই দিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তিনি।
মিতুর মা পাখি বেগম জানান, ছয় মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সাথে মিতুর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবিদাওয়া পূরণ করে কনেপক্ষ। সেই সাথে বিয়ের সময় স্বামী জাহিদ ঢাকায় চাকরি করে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ বিয়ে করে। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানাভাবে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। জাহিদের সৌদি প্রবাসী বাবা ১৫ দিন আগে বাড়িতে এসে মিতুর পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করে জাহিদের পরিবার। মিতুর পরিবার এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর থেকেই স্বামী ও পরিরারের লোকজন গৃহবধূ মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। গত মঙ্গলবার রাতে জাহিদ তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে এমন হুমকিও দেয়। এ নির্যাতনে মিতুর শাশুড়ি কনক বেগম ও ননদ শেফালি আক্তারও অংশ নেয়। মিতু গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তার পরিবারের কাছে সালিশীর কথা বলে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদে আসতে খবর দেয়। মিতুর স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মিতুকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিতুকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোনিয়া আক্তার বলেন, মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটুনির দাগ রয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ।
মিতুর ভাই মনির হোসেন জানান, বোনের ওপর এমন নির্যাতনে আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : ‘স্বাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ^ গড়ি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় …

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীকে মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ক্যান্সারে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!