বুধবার , সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২০
Breaking News
SONY DSC

বামনত্ব দমিয়ে রাখতে পারেনি মেধাবী ছাত্রী হামিদাকে

স্টাফ রিপোর্টার  : মহান আল্লাহর দেয়া নিয়তির বিধানে হামিদা খর্বকায় জীবন নিয়ে জন্মেছে। প্রায় তিন ফুট উচ্চতার শারিরীক প্রতিবন্ধী হামিদা পরিবারের অন্য সবার মত বেড়ে ওঠেনি। তবে খর্বকায় বলে সে পিছিয়েও পড়েনি। কঠোর মনোবল আর অধ্যাবসায়ের ফলে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে হামিদা। লেখা পড়ার প্রতি নিরলস চেষ্টা বামন হামিদার জন্য সম্ভাবনাময় জীবনের হাতছানি দিচ্ছে। পড়াশুনায় গভীর মনোযোগি হামিদা একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সে পিএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করে। এছাড়া জেএসসি পরীক্ষায় প্রচন্ড জ¦রে অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে পরীক্ষা দিয়ে ৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট অর্জন করে। অদম্য হামিদা আক্তার (১৬) এবার পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র হতে দাখিল পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিচ্ছে। সে মঠবাড়িয়ার উপজেলার সেনের টিকিকাটা গ্রামের দরিদ্র মো. সিদ্দিকুর রহমান ও তাজিনুর বেগমের মেয়ে।

হামিদার বাবা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি নিজেও একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে খর্বকায় জীবন নিয়ে বেঁচে আছেন। তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে হামিদা মেঝ। তবে বড় ছেলে আল ইমরান ও ছোট মেয়ে সাবিহা আফরীন স্বাভাবিক জীবনে বেড়ে উঠলেও হামিদার বেলায় তা ঘটেনি। ১৬ বছরের জীবনে সে তিন ফুটেরও কম উচ্চতা নিয়ে বেঁচে আছে। তবে লেখা পড়ার প্রতি তার গভীর মনোযোগের কারনে সে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে এলাকায় সকলের স্নেহ মমতা নিয়ে আছে।

সিদ্দিকুর আরও জানান, তার বড় ছেলে আল ইমরান স্নাতক শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় অর্থাভাবে আর লেখাপড়া করাতে পারেননি। ছোট মেয়ে সাবিহা আফরীন মঠবাড়িয়া কে.এম লতীফ ইনস্টিটিউশনে ষষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে।

পৈত্রিক ভিটে মাটিতে মাত্র দশ শতাংশ জমির মালিক সিদ্দিকুর। সংসার চালাতে সে স্থানীয় পোস্ট অফিসে মাস্টারোলে পোস্টম্যান হিসেবে কাজ করে মাত্র দুই হাজার টাকা সম্মানীভাতা পায়। এ দিয়ে চলছে পাঁচ সদেস্যর পরিবার ও সন্তানদেও লেখা পড়া।

মেধাবী ছাত্রী হামিদা জানায়, বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করি। শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারনে সঙ্গে বইয়ের ব্যাগ বহন করা সম্ভব হয়না। তাই এক সেট পাঠ্য বই মাদ্রাসায় আর একসেট পাঠ্য বই বাড়িতে রেখে নিয়মিত পড়াশুনা করতে হয়।

মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সালেহ জানান, দুর্ভাগ্যবশত হামিদা খর্বকায় জীবন নিয়ে বেঁচে আছে। তবে সে অত্যন্ত মেধাবী। প্রতিবন্ধীতা কোন বোঝা নয় তা হামিদাকে দেখলে বোঝা যায়। একদিনও মাদ্রাসা বন্ধ দেয়নি। অনেক কষ্ট করে সে এবার বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অদম্য হামিদা একটি দৃষ্টান্ত। আশা করি সে পরীক্ষায় এবার কৃতিত্ব রেখে আমার মাদ্রাসার নাম উজ্জল করবে।

 

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় জমিজমার বিরোধের জেরে বর্গা চাষীর পা ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রিয়াজুল হক ও তার বর্গা চাষী ফারুক ফরাজীর …

মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : ‘স্বাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ^ গড়ি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!