বৃহস্পতিবার , অক্টোবর ১ ২০২০
Breaking News

বঙ্গবন্ধু ও মহান স্বাধীনতা উৎসব – মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ

ইতিহাসের উজ্জলতম দিন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। সময়ের পরিক্রমায় বছরে একবার দিনটি আমাদের মাঝে আসে আবার চলে যায়। বাঙালিরা স্বাধীনতার আবর্তে মহাকাশময় চিত্তে শ্রদ্ধাভরে দিনটিকে পালন করে বাঙালিত্ব বিশ্বের দরবারে পৌছে দেয়। তাই ব্যতিক্রমী এ দিবসটি পালন করতে গিয়ে প্রথমেই যার স্মরনে শীর নত হয়ে আসে তিনি হলেন বাঙালি জাতীসত্ত্বার গুনধর, রূপকার, ও স্বাধীন বাংলার কারিগর, হাজার বছরের শেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার অপরিসীম আত্মত্যাগ, স্বার্থত্যাগ, কালজয়ী সংগ্রাম ও দুরদর্শী নেতৃত্বের পুরস্কার স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে আজ জ্বল জ্বল করছে। যার একটি আঙ্গুলিহেলন ঘোষনার মধ্য দিয়ে বাংলা মাকে মুক্ত করতে ঝাপিয়ে পরেছিল দেশের অসংখ্য অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা মা-বোন ও শহীদ ভাইয়েরা। যাদের আত্মত্যাগ ও তেজদীপ্ত সংগ্রামে বাংলার আকাশে আজ লাল সবুজের পতাকা পত-পত করে উড়ছে তাদেরকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছি। স্বাধীনতার ৪৭ তম আবর্তে শ্রদ্ধাভরে পালন করতে তৈরী আজ বাঙ্গালী। শুধু পালন নয়, এদিনে শিক্ষা নেয়ার আছে আমাদের অনেক কিছু। যার চিন্তা চেতনার ফসল স্বাধীন বাংলাদেশ, তার চিন্তা চেতনা বাঙালী জীবনে বাস্তবায়ন না করলে বাঙালিত্ব অপূর্ন থেকে যাবে। সারাটি জীবন সংগ্রাম করে বাংলার অপামর মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন তা শুধু স্মরন করেই নয় সামাজিক ও রাষ্ট্রিয়ভাবে অনুসরন, অনুধাবন করা যে আজ আমাদের ব্রত হয়ে দাড়িয়েছে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী দীর্ঘ সংগ্রামের পুরস্কার স্বাধীন বাংলাদেশ। তার চিন্তা চেতনার মূলেই ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা। ভাত কাপড়ের অধিকার , ভোটাধিকার, শিক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা। ব্যক্তি হিসেবে বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার নৈতিক মানবতাবদী। ব্যক্তি জীবনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন খাটি বাঙালী ও ধর্মপ্রান মুসলমান। তার মধ্যে কোন সাম্প্রদায়ীকতা বা ধর্মান্ধতা ছিল না। বঙ্গবন্ধুর অসাধারন পান্ডিত্য ও প্রজ্ঞা এবং সূদীর্ঘ বৈচিত্রপূর্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, বাংলার মানুষ মুক্তি চায়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন নিপীড়ন বাঙ্গালী জাতি মানতে চায় না। তার বৈচিত্রপূর্ন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারনে বাংলার মানুষের জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান করেছিলেন। তিনি জানতেন ভালবাসা জীবনের সম্পদ এ সম্পদ কখনো ফুরোয় না। যতই দেয়া যায় তা আরো বেরে যায়। জোসনার আকাশে অসংখ্য তারার সমাবেশ থাকলেও চাদের মত একটিও নেই। তেমনি বাংলা প্রান্তরে অসংখ্য মানুষ থাকলেও যুগোপযোগী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অদ্বিতীয়। বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সেরা। সেরা রাজনীতিবিদদের সানিধ্যে থেকে অর্জন করেছিলেন কিভাবে মানুষকে আপন করে অধিকার আদায় করতে হয়। বাংলা মায়ের ঘন সবুজ কোল নিভৃত পল্লী টুংগীপাড়া গ্রামে অত্যান্ত শান্ত সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে সাহেরা খাতুন এর রতœগর্ভে জন্ম নেয়া খোকা যে একসময় চন্দ্রালোক ছাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুতে রূপ নেবে তা কেউ জানত? নিশ্চই না।স্রোতস্বিনী মধুমতির পলি মাটির উর্ভর শক্তি সঞ্চিত শষ্যদানার শক্তিতে শিশু খোকা বাল্য থেকে কিশোর যৌবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে বড় হতে থাকেন। আদর্শ পিতা শেখ লুৎফর রহমানের গর্বিত সন্তান খোকার মধ্যে দুরন্তপনা থাকলেও আদর্শ নেতৃত্ব অর্জন করে বঙ্গবন্ধুতে পরিনত হয়েছিলেন। কখনো দেশের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে আপোষ করেন নি। তিনি জানতেন কোন একদিন লাল সূর্যটা ছিনিয়ে আনবেন। বাংলার মানুষ মুক্ত বিহঙ্গের মত অসীম শূন্যে উড়বে। সে দিন আরবেশী দুরে না। বাংলার দামাল ছেলেরা জীবন বিসর্জন দিয়ে হলেও মাতৃভূমিকে রক্ষা করবে। তারা হারতে জানে না। তারা মাটির একটি কনাও ছাড়বে না। বঙ্গবন্ধু ৭১ পুর্বে, পুর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক কুট-কৌশল খুব পরিস্কার করে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি আরো বুঝতে পেরেছিলেন এখনই উপযুক্ত সময়, আর তাইদেরী না করে ৭১ এর ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমুদ্রে সাহাদাতাঙ্গুলী হেলনে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এ জনসমুদ্র যেন জনতার উৎসবে পরিনত হয়েছিল। আর এ উৎসবের ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শুরু হওয়া পুর্ব পাকিস্তানী জানোয়ারদের সাথে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে লাল সূর্যটা ছিনে নেয় আমাদের দামাল ছেলেরা। দীর্ঘ ২৩ বছরের লড়াই সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিনতি স্বাধীনতার ঘোষনা। ৭ মার্চের “স্বাধীনতার ডাক” ২৬ মার্চের “স্বাধীনতার ঘোষনা” এর মাধ্যমে যে প্রেরনা বাঙ্গালী পেয়েছিল তা হৃদয়ে বপন করে বাস্তবায়নের ফলই হচ্ছে বাঙালীর স্বাধীনতা। অর্থাৎ স্বাধীনতা উৎসব অতি আনন্দের বিষয় হচ্ছে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনোস্কো ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ঘোষণা করেছে- বিশ্ব ইতিহাসের অমূল্য দলিল হিসেবে। এ ভাষন ইউনোস্কোর “ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টরী হেরিটেজ” এর অন্তর্ভুক্ত হয়। ইউনোস্কোর এ স্বীকৃতির মাধ্যমে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো ২ লক্ষ মা-বোনকে সম্মানীত ও মহিমান্বিত করা হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে মুক্তিযদ্ধের অসাম্প্রদায়ীক চেতনা ও মানুষের মুক্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আসুন স্বাধীনতার ৪৭ তম দিনে বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শ হৃদয়ে লালন করতে এবং মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য আমাদের প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ নেই।
লেখক:
মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
শিক্ষক, মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজ
সহ-সভাপতি, মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাব
মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।

 

Comments

comments

Check Also

‘স্যার আমি প্রস্তুত’

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : দেশের যেকোনো দুর্যোগে সবার মতো এগিয়ে আসে পুলিশও। দেশের চলমান এই …

মঠবাড়িয়ায় বাসাভাড়া মওকুফ করলেন এক আওয়ামী লীগ নেতা

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার একটি কলোনির বাসিন্দাদের চলতি মার্চ মাসের বাড়িভাড়া মওকুফ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!