সোমবার , সেপ্টেম্বর ২১ ২০২০
Breaking News

পৃথিবীর কক্ষপথে দুই কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের আশঙ্কা

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : ধুন্ধুমার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে চলেছে পৃথিবীর কক্ষপথে। চিরতরে ঘুমিয়ে পড়া দুটি কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে। সেই ভয়ঙ্কর ধাক্কাধাক্কি লাগতে পারে বৃহস্পতিবার ভোরে। দুটি উপগ্রহের মধ্যে সেই ভয়ঙ্কর ধাক্কাধাক্কি লাগবে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ কিলোমিটার বা ৫৬০ মাইল উপরে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন মাটি থেকে যতটা উপরে (প্রায় ৪০৮ কিলোমিটার) প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবীর কক্ষপথে, তার দ্বিগুণের কিছুটা বেশি উচ্চতায়।
মহাকাশের আবর্জনার উপর নিয়মিত নজরদারি চালায় যারা সেই স্পেস ডেব্রি ট্র্যাকিং সার্ভিস ‘লিওল্যাব্স’ বুধবার এ খবর দিয়েছে। নাসার তরফেও এই খবর সমর্থন করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ওই সংঘর্ষের ফলে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে তুলনায় হাল্কা উপগ্রহটি। তার ফলে, পৃথিবীর কক্ষপথের একাংশে ‘স্পেস ডেব্রি’ বা মহাকাশের ধূলিকণার বিশাল একটি মেঘের জন্ম হবে। গতিপথে পড়লে যে মেঘ কোনও মহাকাশযানের পক্ষে হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নাসাও জানিয়েছে, ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৯ মিনিট নাগাদ দুটি উপগ্রহের মধ্যে দূরত্ব কমে যাবে সবচেয়ে বেশি। দাঁড়াবে বড়জোর ১৫ মিটার থেকে ৩০ মিটারে। বা, ৪৯ ফুট থেকে ৯৮ ফুটের মধ্যে। মাটি থেকে একটা চার বা আট তলার বাড়ির ছাদটা থাকে যতটা উঁচুতে।
‘মহাকাশে দুটি বস্তু এতটা কাছাকাছি চলে এলে তা যথেষ্টই বিপজ্জনক’, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। উৎক্ষেপণের পর সব সময় নজর রাখা হয়, কোনও উপগ্রহ বা কোনও মহাকাশ-আবর্জনা অথবা কোনও মহাজাগতিক বস্তু যেন মহাকাশযান থেকে ৬০ কিলোমিটার বা তার কম দূরত্বে এসে না পড়ে। তা হলে তা মহাকাশযানের পক্ষে হয়ে উঠবে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
‘লিওল্যাব্স’-এর একটি সূত্র জানাচ্ছে, যে দুটি উপগ্রহের মধ্যে ভয়ঙ্কর ধাক্কাধাক্কি লাগতে চলেছে, তার একটির নাম- ‘আইরাস’। যার উৎক্ষেপণ হয়েছিল আজ থেকে ৩৭ বছর আগে। ১৯৮৩-তে। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ফলে উপগ্রহটি ঘুমিয়ে পড়েছিল (ডিকমিশন্ড) বেশ কয়েক বছর আগেই। অন্য উপগ্রহটির নাম- ‘জিজিএসই-৪’। ৫৩ বছর আগে যার উৎক্ষেপণ হয়েছিল, ১৯৬৩-তে। এটি মূলত ছিল একটি সামরিক উপগ্রহ। তবে বিজ্ঞান গবেষণার জন্যও তাতে ছিল একটি ‘পে-লোড’।
‘লিওল্যাব্স’-এর সূত্রটির খবর, কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইম (ইউটিসি) অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথে ওই দুটি উপগ্রহের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হতে পারে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে। ওই সময় পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুমিয়ে পড়া দুটি উপগ্রহের মধ্যে দূরত্ব হবে বড়জোর ৪৯ ফুট থেকে ৯৮ ফুটের মধ্যে। কোনও কারণে সেই ধাক্কাধাক্কি না হলে আর দু’-এক দিনের মধ্যেই হতে চলেছে সেই ধুন্ধুমার।
ওয়াশিংটনে নাসার সদর দফতরে ‘পাথফাইন্ডার মিশনে’র অন্যতম সদস্য জ্যোতির্বিজ্ঞানী অমিতাভ ঘোষ বলছেন, ‘এই সংঘর্ষ আমাদের পক্ষে কোনও ভাবেই রোখা সম্ভব নয়। কারণ, দুটি উপগ্রহই বেশ কয়েক বছর আগে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছে। ফলে, কোনও দেশের কোনও মহাকাশ সংস্থার গ্রাউন্ড কন্ট্রোল থেকে ‘সিগন্যাল’ পাঠিয়ে আর দুটি উপগ্রহের কোনওটিরই গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই সংঘর্ষের মতো অনিবার্য পরিণতির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই। পৃথিবীর কক্ষপথে রয়েছে এমন অনেক ঘুমিয়ে পড়া উপগ্রহ। অনন্তকাল ধরে পৃথিবীর কক্ষপথেই তাদের প্রদক্ষিণ করে যেতে হবে। আচমকা অন্য কোনও উপগ্রহ বা গ্রহাণু, উল্কাপিণ্ড অথবা ধূমকেতুর মতো কোনও মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি না হলে। তবে এর আগে পৃথিবীর কক্ষপথে দুটি ঘুমিয়ে পড়া উপগ্রহ এত কাছাকাছি এসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে আমার অন্তত জানা নেই।’
‘লিওল্যাব্স’-এর সূত্রটি জানাচ্ছে, দুটি উপগ্রহের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি লাগার আশঙ্কা যথেষ্টই জোরালো। ১০০টি ঘটনার মধ্যে ১টি। ঘুমিয়ে পড়া দুটি উপগ্রহের একটি তো যথেষ্টই ভারী।
উৎক্ষেপণের সময় ‘আইরাস’-এর ওজন ছিল ১ হাজার ৮৩ কিলোগ্রাম। যা লম্বায় সাড়ে ১১ ফুটেরও বেশি। চওড়ায় সাড়ে ১০ ফুট। আর উচ্চতায় সাড়ে ৬ ফুটের কিছু বেশি। তুলনায় অনেকটাই হাল্কা ‘জিজিএসই-৪’। উৎক্ষেপণের সময় যার ওজন ছিল ৮৫ কিলোগ্রাম। দুটি উপগ্রহ পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করছে যথেষ্ট গতিবেগে। তাদের আপেক্ষিক গতিবেগ সেকেন্ডে সাড়ে ১৪ কিলোমিটারেরও বেশি। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

Comments

comments

Check Also

নক্ষত্রের জন্ম দিয়ে চলা বিস্ময়কর ব্ল্যাকহোলের সন্ধান! 

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর মূলত নেতিবাচক ও বিধ্বংসী শক্তির উৎস হিসেবে পরিচিত। অভাবনীয় …

সিম ছাড়াই কল যাবে মোবাইলে

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা পেতে মোবাইল সিম ছাড়াই কল করার সফল পরীক্ষা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!