বুধবার , সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২০
Breaking News

নবাব সিরাজউদ্দৌলা আমার পূর্বপুরুষ : ইসাহাক আলী ফৌজদার

শাকিল আহমেদ : অনেক দিন ধরে মনে মনে খুঁজছিলাম ফৌজদার সাহেবকে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে মঠবাড়িয়া থেকে তিনি ঢাকায় চলে যান। তখন খুব অসুস্থ ছিলেন। ভাবছিলাম হয়তো ফৌজদার সাহেবের আর দেখা পাব না। গত ৭ সেপ্টেম্বর হঠাত্ করেই তার দেখা পেলাম। মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। আমি ফৌজদার সাহেবকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। তিনি আগের মতো সুস্থ শরীরেই হাঁটছেন। ৯ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের পর দেখা হলো মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। মসজিদের পুরনো ভবনের মেইন গেটের সামনে বসে মুসল্লিদের কাছে হাত পেতে সাহায্য চাইছে। পরদিন ফজরের নামাজের পর উপজেলা পরিষদ মসজিদে গিয়ে দেখি ফৌজদার সাহেব মসজিদের বারান্দায় একটি পলিথিনে করে ভাত খাচ্ছেন। আমি তার পাশে বসে পড়লাম। এরপর তার একটি সাক্ষাত্কার নিলাম। আসুন আমরা সবাই ফৌজদার সাহেবের বংশ পরিচয়, ফৌজদার খেতাব এবং তার ভাষ্যমতে জীবনের কিছু ইতিহাস জেনে নেই।

পুরো নাম মোঃ ইসাহাক আলী ফৌজদার। তার দাবি মতে বর্তমানে বয়স ১০৫ বছর। পিতা মৃত আঃ ওয়াহেদ আলী মাষ্টার। তিনি ব্রিটিশ আমলে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সাহেবের মাঠ স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। দাদা আঃ ওহাব মিয়া। তার দাদা নাকি কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক ছিলেন এবং হাতেম আলী খান সাহেবের সমবায় ব্যাংকের হেডক্লার্কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফৌজদার সাহেবের নানাবাড়ি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকরি গ্রামে। তার নানার নাম আঃ আলী মোল্লা মুসল্লি। তিনি নাকি খাঁটি ইমানদার ছিলেন। ফৌজদার সাহেবের দাবি, তিনিও তার মতো হয়েছেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি দুটি বিবাহ করেন। প্রথম বিবাহ করেন বড়শৌলা গ্রামের মরহুম আজাহার আলী হাওলাদারের তৃতীয় কন্যা মোসাঃ আজিমুন্নেছাকে। তিনি ১৯৭৩ সালে ইন্তেকাল করেন। প্রথম স্ত্রীর সংসারে দুটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। একজনের নাম সেলিম, অন্যজনের নাম ফারুক। ১৯৭৬ সালে তিনি পাতাকাটা গ্রামের মৃত সেরাজউদ্দিন ফকিরের কন্যা হামিদা খাতুনকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তার ভাষ্যমতে দ্বিতীয় স্ত্রী কোনো দিক দিয়ে খাটো নয়। দ্বিতীয় স্ত্রীর মামাতো ফুফাতো ভাইয়েরা অনেক বড় বড় চাকরি করেন। ফৌজদারের দাবি, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা আমার পূর্বপুরুষ। তিনিই আমার দাদাকে ফৌজদার খেতাব দিয়েছেন। সেই থেকে আমরা সমাজে ফৌজদার হিসাবে পরিচিত।’

ফৌজদার সাহেব ৪ জন জমিদারের পুতি, ৮ জন জমিদারের নাতি এবং ৫ জন কামেল পীরের মুরিদ। এ ছাড়া তার নাকি রয়েছে ৯টা পদবি, ৯টা খেতাব ও ৯টা টাইটেল। ফৌজদার সাহেবের দাবি, বাংলাদেশে তাদের মতো সম্মানিত লোক আর নেই। এত সম্মানিত ব্যক্তির ভিক্ষাবৃত্তির কারণ জানতে চাইলে বলেন, প্রতিপক্ষরা জমিজমা ঠকিয়ে খায় বিধায় আজ এই অবস্থা। ফৌজদার সাহেবের মূল বাড়ি ভাণ্ডারিয়ার তেয়ারীপুর বড় মিয়াবাড়ি। দাদার চাকরির সুবাদে তার মঠবাড়িয়ায় বেড়ে ওঠা। মঠবাড়িয়া বন্দরের মাছ বাজারের পাশেই তরকারির দোকান ছিল তার এক সময়। তিনি ১৯৭৫ সালের ২৫শে এপ্রিল বকসির ঘটিচোরা গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র হালদারের কাছ থেকে সাত হাজার টাকায় ২৫ কাঠা জমি ক্রয় করে বাড়ি-ঘর তৈরি করেন। তার ভাষ্যমতে প্রতিপক্ষরা তার ক্রয়কৃত জমির দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বর দিয়ে দুইখানা ভুয়া দলিল করে। ভুয়া দলিল করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তিনি বাজারে এলে প্রতিপক্ষরা নাকি বলত, ওই ভুয়া আইছে ভুয়া আইছে। এ সময় লোকজন জিজ্ঞাসা করত ভুয়া কী? তখন তারা বলত ওর দলিল ভুয়া। আর এই ভুয়া শব্দ থেকেই নাকি সমাজের দুষ্ট লোকজন তাকে ভুয়া ম্যাট্রিক, এ্যারো ম্যাট্রিক, দামড়া ম্যাট্রিক ও রাঙ্গা দামড়া ডাকতে শুরু করে। ফৌজদার সাহেবের অভিযোগ, তার প্রতিপক্ষরা তাকে পাগল বানিয়েছে। প্রতিপক্ষরা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছে। ফৌজদার সাহেবকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

 

লেখক : দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি।

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় জমিজমার বিরোধের জেরে বর্গা চাষীর পা ভেঙ্গে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রিয়াজুল হক ও তার বর্গা চাষী ফারুক ফরাজীর …

মঠবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার : ‘স্বাক্ষরতা অর্জন করি, ডিজিটাল বিশ^ গড়ি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!