Sunday , May 31 2020
সর্বশেষ খবর:

ধান কাটার পর জমিতে অন্য ফসল লাগান : প্রধানমন্ত্রী

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : কোনো জমি ফেলে না রাখার পাশাপাশি একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে ধান কাটার পরপরই সেই জমিতে অন্য ফসল লাগানোরও পরামর্শ দেন তিনি। ২০ এপ্রিল সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সংকটে দেশে যেন খাদ্যর সমস্যা না হয় সেজন্য সব জমিতে ফসল ফলাতে হবে। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেদিকে সকলে দৃষ্টি দেবেন। ধান কাটার পরপরই সেই জমিতে অন্য ফসল লাগান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কৃষিখাতে আরও বেশি। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে আমরা কৃষি ঋণ দিচ্ছি। বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ধাপে ধাপে রপ্তানিমুখী খাত, বৃহৎ শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছি। পরে কৃষিখাতের জন্য প্রণোদনা দিয়েছি। এই প্রণোদনা কেবল ধানচাষিদের জন্য নয়, মৎস্য-পোল্ট্রি-ডেইরি সব খাতকে প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং কোনো খাত প্রণোদনা থেকে বাদ পড়বে না।

করোনা যুদ্ধ মোকাবিলায় সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশই এই প্যাকেজ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা শুধু এই বছরের জন্য না। আগামী তিনবছর দেশের অর্থনীতির চাকা যাতে সচল থাকে সেটা মাথায় রেখেই এই প্রণোদনা। যা অব্যাহত রাখা হবে । ১ কোটি রেশন কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি মানুষকে সহায়তার আওতায় আনা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ৫০ লাখ সুবিধাভোগীর সঙ্গে রেশন কার্ডের মাধ্যমে আরো ৫০ লাখ যোগ করে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করা এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি লোককে সহযোগিতায় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। তিনি নতুন ৫০ লাখ লোকের তালিকায় দলমত নির্বিশেষে যাদের প্রয়োজন সেরকম কেউ যেন বাদ না পড়ে এবং যারা হাত পাততে পারেন না তেমন কেউ যেন খাদ্য সাহায্য বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে খাদ্য সংকট হবে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব হবে না। তাছাড়া আমাদের এখন ধান উঠছে। ধান কাটাও শুরু হয়ে গেছে। আগামীতেও ফসল উঠবে। সেই সঙ্গে তরিতরকারি ফলমূল যে যা পারেন উৎপাদন করবেন।

ধান কাটায় সহযোগিতা করতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ছাত্র সমাজের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

গণভবন প্রান্তে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,  মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যা লয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

 

Comments

comments

Check Also

সাধারণ ছুটি বাড়ল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : করোনা ভাইরাস দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত …

কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন কী?

কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন কী–এ বিষয়ে নিজস্ব সংজ্ঞার কথা জানাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও …

error: Content is protected !!