গত এক সপ্তাহে আরও পাঁচটি পাইল স্থাপন হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখার সময়ও পদ্মার বুকে ১৪ নম্বর পিলারে ধুম ধুম শব্দে পাইল বসছিল। প্রায় ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবার থেকে এই পাইল স্থাপনে ছন্দ ফিরেছে। ২ হাজার ৪০০ কিলোজুল ক্ষমতার একই হ্যামারই ঘুরে ঘুরে পাইলগুলো ড্রাইভ করছে। এই দফায় ১৩ নম্বরে আরও ২টি, ১৪ নম্বরে ২টি এবং ৩৬ নম্বর পিলারে ১টি পাইল বসেছে। এদিকে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ১ হাজার ৯০০ কিলোজুল ক্ষমতার সচল একটি হ্যামার মংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এটি ৮ আগস্ট মাওয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। এছাড়া জার্মানিতে সাড়ে ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার নতুন হ্যামার তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে মাওয়ায় এর আগে আসা ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার নতুন হ্যামারটি এখনও সচল করা সম্ভব হয়নি। সচল হয়নি ২ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারটিও।

এদিকে জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সেতুর (ভায়াডাক্ট) ১৪৫টি পাইল ড্রাইভ হয়েছে। এই সংযোগ সেতুর ১৯৩টি পাইলের আরও ৪৮টি পাইল ড্রাইভের প্রক্রিয়া চলছে। তবে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টের কাজ এখনও শুরু হয়নি। মংলা পোর্টে জটিলতার কারণে ক্রেন আসতে বিলম্ব হওয়ায় এই কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তারপরও শীঘ্রই মাওয়া প্রান্তের এই সংযোগ সেতুর কাজ শুরু হবে বলে জানান দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা। মংলা বন্দরের জটিলতার কারণে পদ্মা সেতুর ১০ নম্বর স্প্যানও মংলা বন্দরের কাছাকাছি। এক মাস ধরে মংলা পোর্টে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে পদ্মা সেতুর সমুদ্রপথে আসা মালামাল আনা সমস্যা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান হতে চলেছে। ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলার সম্পন্ন হওয়ার পথে এখন। ওপরের লেয়ারের বেইজ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন তর তর করে পিলার উঠে যাচ্ছে। এখন ৩৯ নম্বর পিলারের ওপরের বেইজ কংক্রিটিং হচ্ছে।

উত্তাল পদ্মায় বর্ষা-বৃষ্টি রোদ উপেক্ষা করেই পদ্মা সেতুর বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এরই মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চলেছে মূল সেতু। তাল মিলিয়ে চলছে নদীশাসনের কাজও।  (সূত্র : দৈনিক জনকণ্ঠ)