শনিবার , সেপ্টেম্বর ১৯ ২০২০
Breaking News

দাম্ভিকতা না বালখিল্যতা : মঠবাড়িয়াকে ১০০ বছর এগিয়ে দিয়েছি!

কোনখান থেকে শুরু করব, আর কোনখানে গিয়ে শেষ করব, বুঝে উঠতে পারছি না! কোনো সভ্য লোক মঠবাড়িয়ায় আসার পর তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি সন্দেহাতীতভাবে বলবেন, এই এলাকায় সভ্যজনেরা বসবাস করেন কি না? করলে কীভাবে?

মঠবাড়িয়া একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা! তার সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থাকা সত্ত্বেও সে বিকলাঙ্গ অবস্থায় কোনোমতে খুঁড়িয়ে খঁড়িয়ে চলছে!

পানীয় জল :  কোনো প্রকার সুপেয় পানিয় জলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি আজও! পানির অপর নাম জীবন, অথচ এই জীবন মঠবাড়িয়াতে অনুপস্থিত! মঠবাড়িয়াবাসীর ভাগ্য এতই খারাপ এখানে টিউবওয়েল unsuccess! তাই খাল-বিল, নদী-নালা, ডোবা-পুকুরের পানিই তাদের শেষ ভরষা! এতে করে এলাকাবাসী সারা বছরই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত থাকে!

রাস্তাঘাট : ১৯৪৭ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এ এলাকার রাস্তাঘাটের কোনো সংস্কার হয়েছে বলে মনে হয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বদৌলতে মানুষ সমস্ত উপজেলার রাস্তাঘাটের বেহাল চিত্র দেখতে পাচ্ছে!

হোটেল-রেস্তোরাঁ : কোনো ভালো মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ এখানে নেই, যাও আছে তা অস্বাস্থ্যকর, দেখভালের কেউ আছে বলে মনে হয় না।

পার্ক-স্টেডিয়াম : বিনোদন বা হাঁটাহাঁটির (ডায়াবেটিক রোগীশিশুদের) জন্য নেই কোনো পার্ক বা খেলাধুলার জন্য মানসম্পন্ন মাঠ। পাশের উপজেলা ভাণ্ডারিয়াতে এই সেদিনও ছিল কয়েকটি গোলের বাচারি ঘর। এখন সেখানেও বিনোদনের জন্য দৃষ্টিনন্দন দুটি পার্ক করা হয়েছে, আর সেখানে বিনোদনের জন্য মঠবাড়িয়ার বেশি সংখ্যক লোক যেয়ে থাকেন। অথচ কোনো এক সময়ে মঠবাড়িয়াই ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

হাসপাতাল : ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির করুণ অবস্থা। ডাক্তার, নার্স, আয়া, অন্যান্য কর্মচারীর অপ্রতুল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে গরিব অসুস্থ রোগীদের ঠেলে দেয়া হয় ভুঁইফোড় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে! হাসপাতালটিতে দালাল গিজগিজ করে। প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে এই সুবাদে!

বর্তমান এমপি সাহেব একজন ডাক্তার, পূর্বের এমপি সাহেবও ছিলেন ডাক্তার, এছাড়াও বিভিন্ন দলে বেশ কিছু সংখ্যক ডাক্তার নেতা থাকা সত্ত্বেও মঠবাড়িয়া হাসপাতালটির এই দুরবস্থা কেন?

বিদ্যুৎ : মঠবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ আসে নাকি যায় তা কেউ বলতে পারে না। গত রমজানে রোজাদারদের তারাবি ও সেহরিতে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি একটি সভায় পল্লীবিদ্যুতের জিএমকে বলেছিলেন, ‘আকাশে হাউশি দেলেই আমনেগো বিদ্যুৎ আর থাহে না।”

গরুর হাট/অডিটরিয়াম : মঠবাড়িয়া পৌরসভাটি শিশু থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করলেও গরুর হাটটি এখনও শহরের কেন্দ্রবিন্দু থেকে অন্যত্র হটানো গেল না! খুবই পরিতাপের বিষয় এপর্যন্ত মঠবাড়িয়াবাসী একটি অডিটরিয়ামের দেখা পায়নি!

ভোগান্তি : ব্যাংক, ভূমি, প্রকৌশল অফিসে অসহনীয় ভোগান্তি ও দুর্নীতি, দেখার কি কেউ আছে? বয়স্ক ভাতা, অবসর ভাতা সংগ্রহে অবর্ণনীয়, সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘবে কোনো জনপ্রতিনিধি চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয় না!

উন্নতি হয়েছে বটে! তা হলো মাদক ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীর চরিত্রের অবক্ষয়জনিত উন্নয়ন, হয়েছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের উন্নয়ন! খাল-বিল, সরকারি খাস সম্পত্তি লুটের উন্নয়ন!

উপরিউক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পরে কেউ যদি শুধুমাত্র চারখালী টু পাথরঘাটা রাস্তা একনেকে পাস হবার কারণে বলেন যে মঠবাড়িয়াকে আমি ১০০ বছর এগিয়ে দিয়েছি, সেটি কি বালখিল্যতা না দাম্ভিকতা? আজ ১৮ বছর পর্যন্ত রাস্তাটি নিয়ে বিভিন্ন সরকার, আমলা, নেতা, এমপি, মন্ত্রীর প্রচেষ্টার ফসল যদি কেউ এককভাবে নিজ গৃহে নিতে চেষ্টা করেন, জনগণ তা মেনে নেবে কেন?

বরং এমপি সাহেব এটা বললে ভালো করতেন; মঠবাড়িয়ার জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আপনারা আমাকে বারবার নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমি আমার সাধ্যানুযায়ী সংসদে কথা বলেছি, আপনাদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় তার চেষ্টা করেছি। আজ বুক উঁচিয়ে বলতে পারছি বহুুদিনের লালনকৃত স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে, আপনাদের ভোগান্তি অচিরেই সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ!

নির্বাচন সামনে তাই অতিকথনে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে! তাই আল্লাহভীতি অনুভব করুন, লোক দেখানো এবাদত, ওমরা হজ্জ বা হজ্জ কোনো কালে কারও কাজে আসেনি, সামনেও আসবে না! ইন্নামা আমা লু বিন নিয়াত। সকলকে ধন্যবাদ!

 

গোলাম মোস্তফা : মানব সম্পদ কর্মকর্তা, মাছরাঙা টেলিভিশন

 

Comments

comments

Check Also

জননন্দিত খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার (২য় পর্ব)

নূর হোসেইন মোল্লা : পিরোজপুরের মুসলিম লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ মো. …

জননন্দিত খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার

নূর হোসেইন মোল্লা : খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার বলেশ্বর ও বিশখালী নদীর মধ্যবর্তী ভূ-ভাগে জননন্দিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!