Saturday , June 6 2020
সর্বশেষ খবর:

জীবাণু ধ্বংস করতে স্যানিটাইজার কেন এতো কার্যকর?

লকডাউনের সময় বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর তো বটেই, বাড়িতে থাকলেও আমরা বার বার হাত ধুয়ে নিচ্ছি হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে। জীবাণুমুক্ত হওয়ার জন্য সাবান বা পানির চেয়েও বেশি নির্ভর করছি। হাত জীবাণুনাশক ব্যবহারের উপরেই বার বার জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরাও।

কিন্তু কেন এই পরিস্থিতিতে জীবাণুমুক্ত করার গুরুত্ব এতটা বেড়ে গেছে?

এটা বুঝতে গেলে আগে জেনে নিতে হবে স্যানিটাইজার সাধারণত কোন কোন রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়, আর জীবাণুমুক্ত করার ক্ষেত্রে সেই রাসায়নিকগুলোর ভূমিকা কী?

স্যানিটাইজার বানানো হয় সাধারণত তিন ধরনের রাসায়নিক দিয়ে। ইথাইল অ্যালকোহল বা ইথানল। বা, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল। যার আর এক নাম- আইসোপ্রোপানল। অথবা, বেঞ্জালকোনিয়াম ক্লোরাইড। তিনটি রাসায়নিকই পানি খুব তাড়াতাড়ি দ্রবীভূত হয়ে যায় বলে হাতশুদ্ধি বানানোর উপাদান হিসাবে এদের এতো কদর।

স্যানিটাইজার বানাতে মূলত ইথাইল অ্যালকোহল বা ইথানলের ব্যবহার হয়। ছবি শাটারস্টকের সৌজন্যে।

তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাতশুদ্ধি বানাতে ইথাইল অ্যালকোহল বা ইথানলের ব্যবহার হয়। যা নানা ধরনের মদের অন্যতম প্রধান উপাদান। এটাকেই আমরা অ্যালকোহল বলি। ইথাইল অ্যালকোহল তো বটেই, যে কোনও ধরনের অ্যালকোহলই আমাদের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে মেরে ফেলতে বা তাদের নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের প্রোটিনগুলিকে ভেঙে দিয়ে। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস প্রাথমিক ভাবে আমাদের শরীরের যে কোষগুলোতে আস্তানা গাড়ে, সেগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে প্রায় সব ধরনের অ্যালকোহলই। আবার কখনও তা কোষের বিপাক প্রক্রিয়ারও রদবদল ঘটিয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজি রিভিউজ’-এ ২০১৪-য় প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র জানায়, কোনও মিশ্রণে যদি অন্তত ৩০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে, তা হলেই তা জীবাণুনাশক হয়ে উঠতে পারে। সেই মিশ্রণে অ্যালকোহলের ঘনত্ব যত বাড়ে, ততই সেই মিশ্রণটি জীবাণুনাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। মিশ্রণে যদি অ্যালকোহলের ঘনত্ব বেড়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তা হলে তা বহু রকমের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মারতে বা তাদের পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, অ্যালকোহলের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবাণুনাশের কাজটি আরও দ্রুত করতে পারে মিশ্রণটি। অ্যালকোহলের ঘনত্ব বাড়তে বাড়তে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে পৌঁছানো পর্যন্ত সেই মিশ্রণটি জীবাণুনাশ করার ব্যাপারে কার্যকর থাকে। তার পর অবশ্য মিশ্রণের সেই ক্ষমতা ততটা থাকে না।

অ্যালকোহলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। তা কোনও ব্যাকটেরিয়া মারতে পারলে, দীর্ঘ দিন ব্যবহারের পরেও সেই অ্যালকোহলের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ারা তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে না। ফলে, ভবিষ্যতে অ্যালকোহলের ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়া মরবে না, এই আশঙ্কাটাও থাকে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, নানা ধরনের সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার চেয়ে ইথানলের মতো অ্যালকোহল ব্যবহার করলে মূলত তিন ধরনের ব্যাকটিরিয়াকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়। তাদের নাম- ‘এসচেরিচিয়া কোলি’, ‘সেরাটিয়া মার্সেসেন্স’ এবং ‘স্ট্যাফাইলোকক্কাস স্যাপ্রোফিটিকাস’।

তবে ডায়ারিয়া হয় যে জীবাণু সংক্রমণের জন্য সেই ব্যাক্টেরিয়া ‘ক্লসট্রিডিয়াম ডিফিসাইল’-কে কিন্তু অ্যালকোহল মারতে বা নিষ্ক্রিয় করতে পারে না।

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধাকে পেটাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খন্দকার হারুন অর রশিদ (৬৮) নামে …

মঠবাড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা কেন্দ্র চালু

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরের রোগী আলাদাভাবে …

error: Content is protected !!