সোমবার , সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২০
Breaking News

গণধর্ষণের পর হত্যার আসামী পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যু !

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ এন্ড টেকনোলজীর ছাত্রী সাদিয়া আক্তার (২১) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী সিরাজুল ইসলাম (২২) শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকের তথ্যে তাকে শারীরিকভাবে টর্চারের পর হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত সিরাজুল মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের মো. ইব্রাহিম মিয়ার পুত্র।
এদিকে নিহতের ছোট বোন মাকসুদা (২১) অভিযোগ করেন, তার ভাইয়ের বরিশাল পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার ভাই অপরাধ করেছে এজন্য দেশের প্রচলিত আইন আছে। আদালতেই তার বিচার হত। কিন্তু পুলিশ যে নির্যাতন করে ভাইকে মেরেছে তার বিচার চান।
৪ ডিসেম্বর আটকের পর আদালতে জবানবন্দিতে সিরাজ ধর্ষণের পর সাদিয়া আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এরপর ৫ ডিসেম্বর আদালত জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে ৮ ডিসেম্বর সিরাজ অসুস্থ্য হলে ওদিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রোববার রাত দেড়টায় সিরাজের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (০৯ ডিসেম্বর) রাত দেড়টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সিরাজুলের।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. তারেক জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় সিরাজের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৮ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১০ মিনিটে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ১০ ডিসেম্বর রাত ১টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রমাণপত্রে ‘ফিজিক্যাল অ্যাসাল্ট’ (শারীরিক জখম) শব্দটি উল্লেখ রয়েছে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. বদরুজদৌজা জানান, সিরাজুলকে কারাগারে পাঠানোর সময় তার শরীরে জখম ছিল। অবস্থার অবনতি হলে সিরাজকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আওলাদ হোসেনের দাবি, সুস্থ্য অবস্থায় আসামী সিরাজকে কারাগারে পাঠানো হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।
জানতে চাইলে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার ফরহাদ সরদার জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আসামী নির্যাতনের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারিরিক নির্যাতন করা হয়েছে কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল অমিন বলেন, যেহেতু আসামী নিজ থেকেই জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ শেষে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তাই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পুলিশ তাকে নির্যাতন করেনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পুরোটা বলা যাবে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় তারা তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ৫ ডিসেম্বর হাজতে পাঠানোর ৩ দিন পর অসুস্থ হলে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুনির্নিষ্ট ভাবে বলা যাবে নির্যাতনে না অন্য কোন কারণে আসামীর মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বরিশাল নগরীর ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর খানের কন্যা সাদিয়া আক্তার ১৯ নভেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বাসায় ফেরেনি। পরবর্তীতে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেলে ২২ নভেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানায় বাবা আলমগীর খান ডিজি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব মোবাইল ট্রাকিং করে মো. সিরাজের উপস্থিতি সনাক্ত করে সোমবার সকালে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঠবাড়িয়া পুলিশের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত সিরাজ ও হাফিজকে গ্রেফতার করেন। সিরাজের ঘর থেকে সাদিয়াকে হত্যার পর ব্যবহৃত স্বর্ণের বল রিং উদ্ধার করা হয়।
প্রধান আসামী সিরাজ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘটনার দিন তার আরেক সহযোগি বাগেরহাটের শনরখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আ. রব হাওলাদারের ছেলে নাজমুল ইসলাম নয়নের সহায়তার বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাদিয়াকে মঠবাড়িয়ে নিয়ে যায়। বাজারে ঘোরাফেরার পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে বড়মাছুয়া এলাকায় বলেশ্বর নদীর পাড়ে নিয়ে সাদিয়াকে ৩ জন মিলে ধর্ষণ করে। চিৎকার দিলে সাদিয়ার গলা টিপে হত্যা করে লাশ বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেয়। তবে এখন পর্যন্ত সাদিয়ার লাশের সন্ধান মেলেনি।

মঠবাড়িয়া থানার এএসআই মো. ইউসুফ জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে রোববার বিকেলে নিহতের ভগ্নিপতি দক্ষিণ বড়মাছুয়া জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদ খান ও স্থানীয় চৌকিদার শিমুল চন্দ্র মন্ডল লাশ গ্রহন করার জন্য বরিশাল গেছেন। বোন জামাই মাহমুদ জানান, প্রথম স্ত্রী সিরাজকে ডিভোর্স দেয়ার পর গত ৪মাস আগে পার্শ্ববর্তী মানিকখালী গ্রামের মজিবুর রহমানের কন্যা মিনা(১৫) বিয়ে করে। ওই স্ত্রী ও সৎ মা মোমেনা কৃষক বাবা ইব্রাহীমকে নিয়ে সিরাজ বাড়িতে থাকেন। মা তহমিনা ২০০৫ মারা যাওয়ার পর সিরাজ বখাটে হয়ে যায়। সিরাজ ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ৩য়। সিরাজের স্ত্রী মিনা এসব বিষয় কিছুই জানেনা বলে জানায়।

 

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় ৪৫০ জেলের পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সাপলেজা ইউনিয়নের ৪৫০ জেলে পরিবারের মধ্যে …

মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মালেক সিকদার (৪৮) নামে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!