শনিবার , সেপ্টেম্বর ১৯ ২০২০
Breaking News

কান চিলে নিছে !

শাকিল আহমেদ : আমাদের গ্রামে একটি প্রবাদ আছে কান চিলে নিছে। কানে হাত না দিয়ে সবারই ছোটাছুটি চিলের পিছনে। আসলে চিলে কান নিছে কিনা তা যাচাই বাছাই করার মতো সময় হয় না। ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়ায় ঘটে গেল কান চিলে নেয়ার এক কাহিনী। মঠবাড়িয়ার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের মেহেদী হাসান (১৮)। পেশায় একজন বিদ্যুতের ইলেট্রিশিয়ান। প্রতিদিনের ন্যায় ১৯ এপ্রিল সকালে মেহেদী বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে ছুটে যায়। ওই দিন ওর চাচী দুলু বেগম তার অসুস্থ্য নিকট এক আত্মীয়কে দেখতে মঠবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালে যান। হাসপাতালে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখতে পেল বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে আহত ১৮ বছর বয়সী একটি ছেলেকে রিক্সা যোগে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসছে। কিছু সময়ের মধ্যেই জরুরী বিভাগের আশপাশে আওয়াজ হলো বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে আহত ছেলেটি মারা গেছে। চাচী দুলু বেগম আর যাচাই বাছাই করেননি মৃত ছেলেটি তার ভাসুরের ছেলে মেহেদী কিনা? তিনি কান্না শুরু করলেন। কারণ ছেলেটি দেখতে মেহেদীর মতো। বয়স মেহেদীর কোঠায়। পেশাও মেহেদীর মতো একজন ইলেট্রিশিয়ান। তিনি আর চেহারা দেখার বা যাচাই বাছাইয়ের সময় নেননি। কান্না জড়িত কণ্ঠেই বাড়িতে ফোন দিলেন আমাদের মেহেদী মারা গেছে। মরদেহ হাসপাতালে আছে। দুলু বেগমের ফোন পেয়ে মেহেদীর অসুস্থ্য মা, বাবা, ফুফুরা সবাই হাসপাতালে হাজির। এবার পাল্লা দিয়ে কান্না। কিন্তু বিষয় একটা। কান চিলে নিচে। কেউ উল্টে পাল্টে অথবা মৃত ছেলেটির চেহারার দিকে ঠিক করে চোখ বুলায়নি এই তাদের মেহেদী কিনা? যাই হোক এক পর্যায়ে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে হাজির। মেহেদী বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারা গেছে এমন খবর পেয়ে আশপাশের লোকজনও হাজির। এক দিকে আত্মীয় স্বজনের কান্নাকাটি অন্য দিকে প্রতিবেশীদের মেহেদীর দাফন কাফনের ব্যবস্থা। কেউ বাঁশ কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউ কবরস্থানের জায়গা মাপছে, আবার কেউ মাইকিং করানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে ছখিনা নামে চট্টগ্রামে বসবাসরত মেহেদীর এক খালাতো বোন মেহেদীর মোবাইলে কল দিল। বোনের ফোন পেয়ে মেহেদী ফোন রিসিভ করল। ফোন রিসিভের সাথে সাথে অপর প্রান্ত থেকে কান্না জড়িত কণ্ঠে শুনতে পেল তুই নাকি মারা গেছ। নিজের মৃত্যুর খবর শুনে মেহেদী হতবাক। নিজের মৃত্যুর খবর সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এমন খবর শুনে মেহেদী আত্মীয়-স্বজনসহ বাড়ির আশপাশের লোকজনের কাছে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে কল দেয়া শুরু করল। কিন্তু মঝার ব্যাপার কেউ বিশ্বাস করছেনা যে মেহেদী জীবিত আছে এবং সেই ফোন দিচ্ছে। তবে এখানে আরেক কাহিনী ওই মেহেদীর আরেক বন্ধুর নাম মেহেদী। সবাই মনে করছে সেই বন্ধু মেহেদী ফোন দিচ্ছে। যাই হোক এক পর্যায়ে কাজ ফেলে মৃত মেহেদী জীবিত অবস্থায় স্বশরীরে বাড়িতে হাজির। এবার বাড়ির সবাই হতবাক। কিরে এতক্ষণ আমরা কাকে নিয়ে কান্নাকাটি করেছি। সবাইর হুশ ফিরে এলো আসলে কান চিলে নিছে কিনা? সবাই এবার কানে হাত বুলালো। হাত বুলিয়ে দেখতে পেল কান কানের স্থলেই আছে। প্রিয় পাঠক, যে ছেলেটি মারা গেছে ওর নাম তরিকুল ইসলাম হাওলাদার (১৮)। ওর বাবার নাম জসিম মুন্সী। ওর বাসা পৌরশহরের দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকায়। পরবর্তীতে মেহেদীর বাড়ি থেকে তরিকুলের আত্মীয়-স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে দাফন করেছে। লেখকঃ দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার মঠবাড়িয়া উপজেলা সংবাদদাতা ও সাপ্তাহিক মঠবাড়িয়ার খবরের বার্তা সম্পাদক।

Comments

comments

Check Also

মঠবাড়িয়ায় নকল কীটনাশক উদ্ধার : গ্রেফতার-১

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলার বড়মাছুয়া বাজারে তিন কার্টুন ১শ ২০ প্যাকেট নকল ভিরতাকো …

পুত্রবধূকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল : থানায় মামলা, শ্বাশুড়ী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শ^শুর ও শ্বাশুড়ী কতৃক প্রবাসী পুত্রের স্ত্রী তানজিলা বেগম (২৬) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!