,

শিরোনাম :
«» মঠবাড়িয়ায় নির্বাচনী সংঘর্ষে ২ প্রার্থীর ৮ কর্মী আহত «» মঠবাড়িয়ায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার «» মঠবাড়িয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাইদীর মুক্তি চেয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ায় মাইক প্রচারম্যান আটক «» মঠবাড়িয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত «» মঠবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৬ নেতা বহিষ্কৃত «» তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেনের ইন্তেকাল «» স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুর রহমানের মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় «» মঠবাড়িয়ায় জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পালিত «» ইশতেহার আসছে : অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ গড়বে আওয়ামী লীগ «» মঠবাড়িয়ায় মার্কা পেয়েই মহাজোট ও আ’লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিল

স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা –  নূর হোসাইন মোল্লা 

নূর হোসাইন মোল্লা : অবিভক্ত বাংলার আইন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে ২টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আমাদের বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট প্রাদেশিক আইন সভার আদেশ অনুসারে ১৯৪৬ সালে নির্বাচিত সদস্যগণ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট থেকে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ১৯৫২ সালে। কিন্তু ১৯৪৯ সালে টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় মুসলিম লীগ নির্বাচনে যেতে অনাগ্রহী হয়। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ১৯৫২ সালের ২১-২২ ফেব্র“য়ারী সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন গণপরিষদের নির্দেশে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে নেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ভারত স্বাধীন আইন অনুসারে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্যে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট গনপরিষদ গঠিত হয়। সদস্যগন  প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্যগন কতৃক নির্বাচিত  ছিলেন। পকিস্তান জন্মের তিনদিন পূর্বে ১১ আগষ্ট করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আনুষ্ঠানিক ভাবে এর উদ্বোধন করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পর  গণপরিষদ সংবিধান রচনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়। ভারত স্বাধীনতা আইন অনুসারে গণপরিষদকে একটি দৈত ভুমিকা পালন করতে হয়। প্রথমত কেন্দ্রীয় আইন সভা হিসেবে কাজ করা দ্বিতীয়ত এমন একটি সংবিধান রচনা করা, যা নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রয়োজন সাপেক্ষে ভারত স্বাধীনতা আইন এবং ভারত শাসন আইনের যে কোন বিধি সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে। সংবিধান রচনায় মুখ্য পদক্ষেপ গ্রহন করতে গিয়ে গণপরিষদ প্রায় ১৯ মাস সময় ব্যায় করে। অবশেষে ১৯৪৯ সালের মার্চ  মাসে অবজেকটিভ রেজুলেশন গ্রহন করেন। এ রেজুলেশনের মূল নীতিমালা ছিলো, রাষ্ট্র তার নির্বাচিত প্রতিনিধিগনের মাধ্যমে ক্ষমতা ও কতৃত্ব প্রয়োগ করবে, গনতন্ত্র, স্বাধীনতা, সাম্য, সহিষ্ঞুতা ও সামাজিক ন্যায় বিচারসহ ইসলাম নির্দেশিত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের নিজ নিজ ধর্ম  প্রচার ওপালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে এবং নিজ নিজ সংস্কৃতি পালন করতে পারবে এবং কতিপয় ক্ষেত্রে নির্দে শিত সীমাবদ্ধতাসহ পাকিস্তানের প্রত্যেকটা ইউনিট স্বায়ত্ব সাশন ভোগকরে ফেডারেল কাঠামোর অধিনে অবস্থান করবে। শেষ পর্য ন্ত ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পূর্বে নূন্যতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ১৯৫৪ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এ জোটের কর্ণধার ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ,কে, ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিবুর রহমান। যুক্তফ্রন্টের নূন্যতম কর্মসূচি প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমেদ (আওয়ামী লীগের সহসভাপতি)। তিনি ২১ দফা প্রণয়ন করেন এবং যুক্তফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উহা অনুমোদন করেন। ২১ দফার ১৯ নং দফায় বলা হয়েছে যে, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলাকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমিক করা হবে এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মুদ্রা ছাড়া সব বিষয় পূর্ব বাংলা সরকারের হাতে আনয়ন করা হবে। দেশরক্ষা বিভাগের স্থল বাহিনীর সদর দপ্তর পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌ বাহিনীর সদর দপ্তর পূর্ব বাংলায় স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, স্বায়ত্ত শাসনের বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলার এ,কে, ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে। যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যায় যে, ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি, মুসলিম লীগ ১০, খেলাফতে রব্বানী ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩টি আসনে জয় লাভ করেন। এ নির্বাচনে মাওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রার্থী হননি। পূর্ব বাংলার গভর্ন চৌধুরী খালেকুজ্জামান শেরে বাংলাকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহবান জানান। মন্ত্রীসভা গঠন নিয়ে শেরে বাংলা এবং সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হলে শেরে বাংলা ৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্রী দল ছাড়াই ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করেন। নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুসলিম লীগের নেতারা ওৎ পেতে থাকেন। তাদের উসকানীতে ২৩ মার্চ কর্নফুলী পেপার মিলে বাঙ্গালী ও অবাঙ্গালী শ্রমিকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দাংগা সংঘটিত হয়। এতে ১৩ জন শ্রমিক মারা যায় এবং অনেকে আহত হয়। এ ঘটনায় যুক্তফ্রন্ট সরকারকে দায়ী করা হয়। (চলমান)

লেখকঃ অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও উপদেষ্টা সাপ্তাহিক মঠবাড়িয়ার খবর।

Comments

comments