,

শিরোনাম :

‘রাজা হবার সাধ নাই মাগো, পারি যেন এমপি হতে…’

গভীর রাতে আমার ফোনের রিংটোন বেজে উঠল। কয়েকবার রিংটোন বাজলেও প্রথমে রিসিভ করলাম না। পরে মনে হলো, হয়তো কোনো সাংবাদিক বন্ধু ফোন করেছেন। নিশ্চয় জরুরি কোনো ব্যাপার। জরুরি না হলে এত রাতে কেউ ফোন করে? তাই শোয়া থেকে উঠে ফোন রিসিভ করলাম। হ্যালো! বলতেই ওই প্রান্ত থেকে রামপ্রসাদী সুরে গান গাইতে শুরু করল একজন, ‘চাই না মাগো রাজা হতে। রাজা হবার সাধ নাই মাগো, পারি যেন এমপি হতে…।’ আমার প্রিয় এ গানটির দুয়েকটি শব্দ বিকৃত করে চমৎকার সুরে গানটি গাইল বন্ধু হরি। বিরক্ত না হয়ে বললাম, হরি থামলি কেন গাইতে থাক। জবাব দিল, দোস্ত, রাজা হব না, এমপি হব। প্রশ্ন করলাম, রাজা না হয়ে এমপি হবি কেন? জবাব দিল, ওম শান্তি। জানতে চাইলাম, মানে কী? জবাবে হরি বলল, রাজা হলে জবাবদিহিতা আছে। এমপি হলে জবাবদিহিতা নাই। ৩০ কোটি বলো আর ১০০ কোটি বলো, কাজ না করে বিল তুলে নিয়ে নেব। দুর্নীতি করব, জনগণ আমার বিরুদ্ধে মিছিল করবে, এতে আমার কিচ্ছু হবে না। বরং আমি তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে যাব। থানায় বলব, আমার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে, আমি এমপি। জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হলো কি না তা আমার দেখার দরকার নেই। ওসি সাহেবও দেখবেন না। আমি আছি তো জনগণ আছে। আবার কেউ অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে আইসিটি অ্যাক্টে। পত্রিকায় হলে মানহানি মামলা। সংসদে গিয়ে চিৎকার দিয়ে বলব, মাননীয় স্পিকার, আমার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে… ইত্যাদি। এভাবে দুর্নীতি করে সরকারের ১২টা বাজাব। জবাবদিহিতা করবে রাজা। এমপি হিসেবে আমি জবাবদিহিতা করব না। তাইতো আমার এই গান চাই না মাগো রাজা হতে, পারি যেন এমপি হয়ে লুটপাট করতে…।

হরির প্যাচালে এক পর্যায়ে আমার খুব খারাপ বিরক্তি লাগল। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখি রাত ২টা। এবার হরিকে আমি বলি, হরি, দোস্ত তুই ক্ষ্যান্ত দে। একটু ঘুমাই। হরি জবাব দিল, জীবনভর ঘুমালে, দয়া করে ফেসবুকটা খুলে দেখ। দক্ষিণাঞ্চলের একজন এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মিছিল করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সাধারণ মানুষ। এমপির এতে কিছু হবে? তার বিরুদ্ধে দুদক যদি তদন্ত শুরু করে, দুদক প্রভাবিত যদি না হয় তা হলে কিছুদিনের জন্য চারশিকে ঢুকতে পারে। এ ছাড়া আর কী হবে? কিছুই হবে না। এমপি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করবে। সংবাদ সম্মেলন করে নিজের গল্প করবে। স্থানীয় সাংবাদিকরা লিখবে… ইত্যাদি। আসলে এমপি যে দুর্নীতি করেছে তা যারা খতিয়ে দেখবে তারা তো ইয়াবা খেয়ে ঘুমাচ্ছে।

আমি চিন্তা করে দেখলাম, হরি ঠিকই বলেছে। দুদক যদি সঠিকভাবে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করত আর সঠিক ব্যবস্থা নিত তা হলে হয়তো হরি রাজা হতে চাইত, এমপি হতে চাইত না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

আজমল হক হেলাল : বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক সকালের খবর।

0Shares

Comments

comments