,

শিরোনাম :

   মুক্তিযুদ্ধ এবং খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার (৩য় পর্ব) – নূর হোসাইন মোল্লা

নূর হোসাইন মোল্লা : মঠবাড়িয়া থানার শান্তি কমিটি রাজাকার বাহিনী গঠন করে ১৯৭১ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। এ বাহিনী গঠনের পূর্বে মুসলিম লীগ এবং জামায়াত ইসলামীর নেতাদের তথা শান্তি কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সহায়তায় সংঘটিত ঘটনাবলী সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

১৯৭১ সালের ৪ মে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী পিরোজপুর শহর দখল করলে মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের  কার্যক্রম পরিচলনার অস্ত্রগারের নব নির্মিত পোষ্ট অফিস ভবন, যা (কন্ট্রোল রুম নামে পরিচিত) দায়িতপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সূর্যমনি গ্রামের ফখরউদ্দিন পিতা ঃ আব্দুল হাই মুন্সি ৫ মে মঠবাড়িয়া পুলিশ সার্কেল প্রধান কাজী জালাল উদ্দিনের নিকট অস্ত্রশস্ত্র জমা দিলে ওই দিন বিকেলে তাঁর নির্দেশে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বকশির ঘটিচোরা গ্রামের সন্তান এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যলয়ের রসায়ন বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র গণপতি হালদারকে। গণপতি হালদার ১৯৬৬ সালে এস.এস.সি.পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে কে.এম.লতিফ ইনষ্টিটিউশন থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১ম স্থান অধিকার করেন। ৬ মে পুলিশ আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, ছাত্র লীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মী তথা  স্বাধীনতাকামীদের ধর-পাকড় শুরু করে। এদিন সকালে টিকিকাটা গ্রামের অমল কৃষ্ণ মন্ডল, দেবত্র গ্রামের বিরেন্দ্র নাথ মন্ডল এবং এ দিন বিকেলে মঠবাড়িয়া থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আব্দুল খালেকের ভাই জাকির হোসেন পনু মাষ্টার ও রাতে কে.এম. লতিফ ইনিষ্টিটিউশনের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র গোলাম মোস্তফা, ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ফারুকউজ্জামান ও তার ভাই খুলনা কমার্স কলেজের ছাত্র জিয়াউজ্জামান, পাতাকাটা গ্রামের আব্দুল মালেক মুন্সি, সূর্যমনি গ্রামের আব্দুল জলিল ও মঠবাড়িয়ায় অবস্থানরত শরণখোলা থানার বকুলতলা গ্রামের শামসুল হক বেপারীকে গ্রেপ্তার করে। ৭ মে নুরুল ইসলাম বি.এস.সি এবং মঠবাড়িয়া কলেজের ভি.পি. আনোয়ারুল কাদির সহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আটক রাখে। তাঁদের মুক্তির জন্যে খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার এবং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম ধলু মিয়া সর্বাত্মক চেষ্টা করেন । পুলিশ সার্কেল প্রধান কাজী জালাল উদ্দিন এবং ও.সি. আব্দুস সামাদ নুরুল ইসলাম বি.এস.সি, জাকির হোসেন পনু মাষ্টার, ফরুকউজ্জামান ও আব্দুল জলিলকে মুক্তি দেন। ৯ মে সকালে অবশিষ্ট ৮ জনকে পিরোজপুর কোর্টে চালান দেয়া হয়। এ দিন রাতেই ক্যাপ্টেন এজাজ আহমেদের নির্দেশে তাঁদেরকে পিরোজপুর খেয়া ঘাটে গুলি করে তাদের লাশ বলেশ^র নদীতে ফেলে দেয়া হয়। জাকির হোসেন পনু মাষ্টার এ লেখককে জানান যে,ওই সময়ে খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার যে ভূমিকা রেখেছেন, তাতে সবারই মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু জামায়াত ই ইসলামীর নেতা ডা. আনিসুর রহমান পিরোজপুরে অবস্থানরত ক্যাপ্টেন এজাজকে  বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ সার্কেল প্রধান কাজী জালাল উদ্দিন এবং ও.সি.আব্দুস সামাদ তাঁদেরকে মুক্তি দেননি। (চলমান)

লেখক : অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সদস্য সচিব,

মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটি।

মোবাঃ ০১৭৩০-৯৩৫৮৮৭

 

Comments

comments