,

শিরোনাম :
«» পিরোজপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি.এম সরফরাজ «» মঠবাড়িয়ায় নারী ভোটারদের উদ্ভুদ্ধ করতে যুব মহিলা লীগের কর্মী সভা «» প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে মঠবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা ও মানববন্ধন «» মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়ায় যুব মহিলা লীগের কর্মী সভা «» মুক্তিযোদ্ধা দেলায়ার হোসেন বাদলের (গোলকি বাদল) ইন্তেকাল «» আশরাফুর রহমান জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত «» মঠবাড়িয়ায় শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ «» মঠবাড়িয়ায় কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ ॥ বিষ পানে আত্মহত্যা ॥ ৭ বছর পর ধর্ষক গ্রেফতার «» মঠবাড়িয়ায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে এক জেলের কারাদন্ড «» মঠবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসক স্বপ্নজয়ীদের বাইসাইকেল প্রদান করলেন

মুক্তিযুদ্ধ এবং খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার  (২য় পর্ব) – নূর হোসাইন মোল্লা

নূর হোসাইন মোল্লা : রাজাকার বাহিনী ছিল হিংস্র। তারা পবিত্র কুরাআনের বানী বেমালূুম ভুলে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় এবং স্বাধীনতাকামীদের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি, প্রতিশোধ, নারী নির্যাতন ও হত্যাসহ মানবতা বিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল। তাদের মতে, হিন্দু সম্প্রদায় এবং স্বাধীনতাকামীরা পাকিস্তান তথা ইসলামের শত্রু। পবিত্র কুরআন শরীফে পরিস্কারভাবে বর্নিত আছে যে, যারা অপরের সম্পদ লুটপাট, বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণ ও নর হত্যা করবে তাদের পতন অনিবার্য। অথচ রাজাকার ও হানাদার পাকিস্তান বাহিনী ইসলামের নামে এমন কোন অনৈতিক কাজ নেই যা তারা করেনি। মঠবাড়িয়ায় এর ব্যতিক্রম ছিল না। মঠবাড়িয়ায় রাজাকারের সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচশত। সারা দেশে ছিল ৫৫ হাজার। আগষ্ট মাসে এ বাহিনী আধা সামরিক বাহিনীতে পরিনত হয়। ক্যাপ্টেন এজাজ আহমেদের নেতৃত্বে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর একটি দল মে মাস থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মঠবাড়িয়ায় অবস্থান করে। রাজাকার এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কর্মকান্ডে খান সাহেব হাতেম আলী জমাদ্দার অসন্তুষ্ট ছিলেন। এবাহিনী এ সময়ে মঠবাড়িয়ায় কত লোক হত্যা ও নারী ধর্ষণ করেছে তার সঠিক হিসাব আজও পাওয়া যায়নি। ক্যাপ্টেন এজাজ আহমেদ চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর একজন। এ সময়ে যারা দেশ ত্যাগ করেনি তারা সবসময়ই এবাহিনীর ভয়ে আতংকিত ছিল । লেখকের পরিবার খুবই আতংকিত ছিল। কারন লেককের পিতা ন্যাপের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। লেখক আওয়ামী লীগের এক জন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।  লেখকের বাড়ি এবং থানা শান্তি কমিটির সভাপতি এম.এ .জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি সাপলেজা ইউনিয়নে। তবে এ দুই বাড়ির মধ্যে দুরত্ব ছিল প্রায় ১০ কি:মি: । লেখক এবং তার পিতা দালাল ও রাজাকারদের দ্বারা হয়রানি ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন।

রাজাকার বাহিনীর হিংস্রতায়  আতংকিত হয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির শীর্ষ নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ও মাওলানা কাওসার নিয়াজি, পাকিস্তান জমিয়াতুল উলামায় ইসলামীর সেক্রেটারী মাওলানা মুফতি মাহমুদ এবং তাহরিখ ইস্তাকলাল পার্টির সভাপতি এয়ার মার্শাল (অবঃ) আজগর খান কিছু বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন। এ কারনে ইসলামী ছাত্র সংঘ এবং আল-বদর বাহিনীর প্রধান আলী আহসান মুজাহিদ ক্ষিপ্ত হয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের দেশ প্রেমিক যুবকরা রাজাকার ও আল বদর বাহিনীর সদস্যরা ভারতীয় এজেন্টদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যে এগিয়ে এসেছে তখন কতিপয় রাজনৈতিক নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো, মাওলানা কাওসার নিয়াজি, মাওলান মুফতি মাহমুদ, ও আজগর খান রাজাকারদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে বিষোদগার করেছেন। এসব নেতার এধরণের কার্যকলাপ বন্ধ করা জন্যে এবং এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানান (দৈনিক সংগ্রাম, ১৫ অক্টোবর, ১৯৭১ ইং)। এ মুজাহিদকেই মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মহামান্য  আদালত মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।

(চলমান)

লেখক : – অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, এবং সদস্য সচিব

মঠবাড়িয়া উপজেলা নাগরিক কমিটি।

মোবাঃ ০১৭৩০-৯৩৫৮৮৭

 

Comments

comments