,

শিরোনাম :

মঠবাড়িয়া প্রতিদিনের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ

শাকিল আহমেদ : আজ মঠবাড়িয়া প্রতিদিনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়ায় সর্বপ্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টার হিসেবে মঠবাড়িয়া প্রতিদিন যাত্রা শুরু করে। প্রতিদিনের আত্মপ্রকাশের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মঠবাড়িয়াবাসীর অনলাইন সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিলোনা। কারণ মঠবাড়িয়া প্রতিদিনের আত্মপ্রকাশের পূর্বে সাপ্তাহিক মঠবাড়িয়ার খবরের আত্মপ্রকাশ। আমি শুরু থেকেই ওই পত্রিকাটির সাথে সম্পৃক্ত। পত্রিকাটি প্রকাশের পর ঢাকায় বসবাসরত মঠবাড়িয়ার অনেক লোক এক কপি পত্রিকার জন্য আমাকে ফোন দিতো। কীভাবে এক কপি পত্রিকা পাওয়ায় যায়? শুধু মঠবাড়িয়ার সংবাদগুলো জানার জন্য। আমি অনেককে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় পত্রিকা পাঠিয়ে দিয়েছি। যাই হোক। আসলে আমারও অনলাইন সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা ছিল না। কারণ আমি ২০০৭ সালে সাংবাদিকতার পেশায় আসি। তখন আমাদের এলাকায় ইন্টারনেটের ব্যবস্থা ছিল না। তখন মঠবাড়িয়ার সাংবাদিকরা পত্রিকা অফিসে নিউজ প্রেরণ করত ফ্যাক্সযোগে। তাও দিনের নিউজ। এলাকার সমস্যাবলি অথবা উন্নয়নমূলক বড় ধরনের কোনো ফিচার নিউজ ডাকযোগে পাঠাতাম। সম্ভবত ২০০৮ সালের শেষের দিকে অথবা ২০০৯ সালের প্রথম দিকে মঠবাড়িয়ায় ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু হয়। তখন থেকে আমরাও ই-মেইলে নিউজ প্রেরণ শুরু করি। কিন্তু তখনও সব পত্রিকায় অনলাইন ব্যবস্থা চালু হয়নি। সারা দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হওয়ায় পত্রিকাগুলোও আস্তে আস্তে অনলাইন ব্যবস্থা এবং পৃথক পৃথকভাবে অনলাইন পত্রিকা বের হতে শুরু করে। তাও শহরকেন্দ্রিক। এক সময় আইএনবি, ইউএনবি ছিল দেশের নামিদামি অনলাইন নিউজ পোর্টার। এলাকাভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা ছিল না বললেই চলে। ঠিক সেই মুহূর্তে মঠবাড়িয়া থেকে একটি অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করলেন মঠবাড়িয়ার কৃতী সন্তান ঢাকায় বসবাসরত একজন সংবাদকর্মী জহিরুল ইসলাম। জহিরুল ইসলাম সম্পর্কে আমার চাচা। ছোটবেলা থেকে মায়ের মুখে তার নাম শুনেছি। কিন্তু ২০১৩ সালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাকে দেখার সুযোগ হয়নি। জানতাম তিনি ঢাকায় জনকণ্ঠ পত্রিকায় চাকরি করেন। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় সাংবাদিক আবদুস সালাম আজাদীর দোকানে বসে তার সাথে পরিচয়। তখন তিনি বললেন, মঠবাড়িয়া থেকে একটি অনলাইন পত্রিকা বের করবেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মঠবাড়িয়া প্রতিদিন যাত্রা শুরু করে। পত্রিকাটি আত্মপ্রকাশের পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মঠবাড়িয়াতেই নয়, জেলার একমাত্র অনলাইন পত্রিকা ছিল মঠবাড়িয়া প্রতিদিন। প্রবাসী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত মঠবাড়িয়ার মানুষগুলোর মধ্যে দেখা দেয় এক প্রাণচাঞ্চল্য। মঠবাড়িয়া প্রতিদিনই যেন তাদের প্রাণ। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ভিজিট করা ছিল তাদের নেশা। নিউজের গুণগত মানের দিক থেকেও মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ছিল একধাপ এগিয়ে। বর্তমানে মঠবাড়িয়ায় অনেকগুলো অনলাইন পত্রিকা থাকলেও সবকিছুর মূলে মঠবাড়িয়া প্রতিদিন। আগামীর পথচলায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও পাঠকপ্রিয়তায় মঠবাড়িয়া প্রতিদিন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। মঠবাড়িয়া প্রতিদিন লাখো পাঠকের অন্তর জুড়ে ষষ্ঠ বর্ষ থেকে এগিয়ে যাবে শত বছরে। এটাই প্রত্যাশা।

লেখক : দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রতিনিধি

 

Comments

comments