,

শিরোনাম :

মঠবাড়িয়ায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনে শিকার গৃহবধুর মৃত্যু : থানায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় যৌতুকের দাবীকৃত ১ লাখ টাকা দিতে না পারায় পাষন্ড স্বামী ও তার লোকজনের নির্যাতনের শিকার গৃহবধু রুবী বেগম (৩৫) এর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকার সাভারে সিআরপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই সন্তানের জননী রুবী বেগম মারা যায়। এ ঘটনায় রুবীর বাবা দাউদখালী ইউনিয়নের খাস হাওলা গ্রামের দরিদ্র রফিউদ্দিন বেপারী বাদী হয়ে জামাই হারুন (৪৫) সহ ছয়জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ১১ (ক) ধারায় মঙ্গলবার রাতে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দুইদিন অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের রফিজদ্দিন বেপারীর কন্যা রুবী বেগমের সাথে দাউদখালী খাস হাওলা গ্রামের উজ্জত আলী খানের পুত্র হারুন খানের সাথে ৯ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই জামাই হারুন যৌতুকের জন্য রুবী বেগমকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। সম্প্রতি হারুন স্ত্রী রুবী বেগমকে বাপের বাড়ী হতে ১ লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু রুবীর দরিদ্র পিতা দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হারুন ও তার সহযোগী শামীম মিয়াজিসহ ৫/৬ জনের দল রুবীকে অমানষিক নির্যাতন করলে মেরুদন্ডে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে আহত হয়। এর ওপরও তাকে বেধরক নির্যাতন করলে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তার স্বজনরা ওইদিন রাতে প্রথমে রুবীকে কাঠালিয়ার আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৩ সেপ্টেম্বর শেবাচিম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভার সিআরপি হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিআরপিতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২১ সেপ্টেম্বর রুবীর মৃত্যু ঘটে। পরে ঢাকার শহীদ সোহরায়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যহত আছে।

 

Comments

comments