,

শিরোনাম :

মঠবাড়িয়ায় নীতিমালা উপেক্ষা করে একই ইউনিয়নে ৭ কলেজ!

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে সাড়ে ২৩ হাজার মানুষের বিপরীতে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য ৭টি এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে। সদ্য সেখানকার একটি কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়। কলেজটি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এমপিভুক্ত হওয়ায় উপজেলাব্যাপী আলাচনার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, এর আগে ওই ইউনিয়নে এমপিওভুক্ত ৬টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও নতুন একটি কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭টি। কিন্তু ওই ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ৪টি। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি বা সমমান পাস করে কলেজে ভর্তি হন। স্থানীয় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের অভিযোগ, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় এখানকার এসব কলেজে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়।

জানা গেছে, উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা ২৩ হাজার ৪০২। এখানে উচ্চশিক্ষার জন্য রয়েছে ১টি টেকনিক্যাল কলেজ, ১টি ডিগ্রি কলেজসহ ৪টি কলেজ ও একটি কামিল আলিয়া মাদরাসাসহ ৩টি মাদরাসা। এর মধ্যে দেবীপুর ফাজিল মাদরাসাটি শতবর্ষী। কিন্তু সম্প্রতি ওই ইউনিয়নের মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখা চালু করার পর সেটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানটির একাদশ শ্রেণির প্রাথমিক পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতি বাতিলের জন্য হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়ে এমপিওভুক্তির সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একই বছর এমপিওর জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। সে মোতাবেক গত কয়েকদিন আগে ঘোষিত এমপিওর তালিকায় তা প্রকাশ পায়।

ওই কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতির অনুমতি প্রদানের আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ জুন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. মো. লিয়াকত হোসেন এ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক স্বীকৃতির অনুমতি প্রদান করেন। কলেজটির প্রতিষ্ঠার প্রথম ২০১৬ সালের ফলাফলে এর পাসের হার ৫৬ হলেও ২০১৯ সালে এ হার ছিল মাত্র ২০।

মিরুখালী কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহাবুবুল হক জানান, কোনো এলাকায় একটি নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সেই এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটির দূরত্ব ন্যূনতম ৬ কি.মি. ও ৭৫ হাজার জনসংখ্যা থাকার কথা থাকলেও একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব সর্বোচ্চ ০.৮ কি.মি. ও ওই ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ২৩ হাজার ৪০২ জন। মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজ শাখা চালু করতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

জানা গেছে, সদ্য এমপিও তালিকাভুক্ত এ কলেজটির এমপিও বাতিলের দাবিতে মিরুখালী কলেজ অধ্যক্ষ মো. মাহাবুবুল হক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেছেন। ওই আবেদন সূত্রে জানা গেছে, মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২০১৩ সালে একাদশ শ্রেণি খোলা হয়। এতে পার্শ্ববর্তী মিরুখালী কলেজের দূরত্ব ৮শ মিটার হলেও দেখানো হয়েছে ৪ কি.মি.।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ. সোবহান শরীফ জানান, জনসংখ্যা ও দূরত্বের দিক থেকে এখানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান চাহিদার থেকে বেশিই হয়েছে। তা ছাড়া সম্প্রতি এখানের মিরুখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজটির এমপিও দিয়ে এলাকায় আরও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংগ্রহে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কাক্সিক্ষত শিক্ষার্থী নেই।

স্থানীয়রা জানান, এসব কলেজ একটি অপরটির প্রায় কাছেই এবং এর একটি থেকে অপরটিতে পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়। এর সর্বোচ্চ ভাড়া ১০ টাকার বেশি নয়।

উপজেলার মিরুখালী, দাউদখালী, টিকিকাটা ও ধানীসাফা এই ৪ ইউনিয়নের প্রায় ৯৮ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে একটি কলেজের প্রাপ্যতা দেখানো হলেও নতুন এমপিওভ্ক্তু ওই প্রতিষ্ঠানটি মিরুখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর অন্য ইউনিয়নগুলোর প্রত্যেকটিতেও রয়েছে একাধিক উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এমন নিকটবর্তী দূরত্বে নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে সুপারিশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

0Shares

Comments

comments