,

শিরোনাম :

মঠবাড়িয়ায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে হযরাণির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটারঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক স্কুল শিক্ষিকা প্রতিপক্ষকে জব্দ করতে এক নৈশ প্রহরী, ওই শিক্ষিকার ভাসুরসহ তিনজনকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে হয়রাণির অভিযোগ উঠেছে। সাজানো ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে থাকা নৈশ প্রহরী দুলাল ফরাজির স্ত্রী মহিমা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
আজ বুধবার সকালে মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে দুলালের স্ত্রী লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামী দুলাল ফরাজি উপজেলার ৬৭ নম্বর পূর্ব সেনের টিকিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন কাম নৈশ প্রহরী পদে চাকুরি করেন। স্থানীয় সেনের টিকিকাটা গ্রামের মৃত হাকিম মুন্সির ছেলে স্বপন মুন্সি ও তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ফুফাত বোন ও স্থানীয় ৬৮ নম্বর পশ্চিম সেনের টিকিকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দিলারা আক্তার এমিলির সাথে ১০ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। পৈত্রিক সম্পত্তি বলে স্বপন মুন্সি বিরোধিয় ওই জমি দীর্ঘনি ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন। ওই জমি স্কুলের নৈশ প্রহরী দুলাল ফরাজি দেখাশোনা করে করছিল। তবে সেনের টিকিকাটা মৌজার ১৬৩৩ খতিয়ানভূক্ত ১৭৬৯ দাগের ১০ কাঠা জমি প্রতিপক্ষ স্কুল শিক্ষিকা দিলারা আক্তার তার ফরাজ সম্পত্তি দাবি করলে দুই পক্ষে জমি নিয়ে চরম বিরোধর সৃষ্টি হয়। গত ২১ মে রাতে শিক্ষকা দিলারা আক্তার তার লোকবল নিয়ে বিরোধিয় জমিতে ঘর তুলে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দিলারার বড় ভাই রুহল আমীন মোল্লাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পুলিশ ওই ঘটনায় একটি জিডি করে (যার নম্বর-৯৩২/১৯- তাং ২১/৫/১৯)। এতে দিলারা ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতে প্রতিপক্ষ দুলাল ফরাজীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লুট মামলা দায়ের করেন।
নৈশ প্রহরী দুলালের স্ত্রী মহিমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা তার স্বামীকে আটকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাকে বরিশালে চিকিৎসা করানো হয়। এতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে ওই শিক্ষিকা প্রতিপক্ষ দুলাল ফরাজিকে প্রধান আসামী করে তিন জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ নৈশ প্রহরী দুলালকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। সে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
গৃহবধূ মহিমা আক্তার অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধ অথচ মামলা দেওয়া হয়েছে ধর্ষণ চেষ্টার। প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী তারা এখন নানা রকম ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা দিলারা আক্তার এমিলি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুলাল প্রতিপক্ষদের পক্ষ নিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টা চালিয়েছে। এ কারনেই আমি আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়েছি।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আব্দুল্লাহ বলেন, ওই স্কুল শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নেয়া হয়েছে। তদন্তে আসামীরা নির্দোষ প্রমানিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments