,

শিরোনাম :

মঠবাড়িয়ার অপহরণ ও হত্যা : জিঘাংসা চরিতার্থ করতে এতটা বেপরোয়া কেন?

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে তুলে নেওয়ার পরের দিন বিএনপির নেতা হাবিবুর রহমান তালুকদারের লাশ উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে সমাজবিরোধীরা এখন অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা যেন আর এতটুকু রাখঢাক করারও দরকার মনে করছে না। তবে মঠবাড়িয়ার হত্যাকাণ্ডের বিবরণ আমাদের এটা ভাবতে বাধ্য করছে যে সমাজে সহিংসতার ধরনে নতুন মাত্রা ও ব্যাপকতা তৈরি হচ্ছে। আইন এবং জনমতের প্রতি ন্যূনতম ভয় বা শ্রদ্ধাবোধ বজায়ের বোধটুকুও মনে হচ্ছে লুপ্ত হতে বসেছে।

প্রকাশ্যে সবার চোখের সামনে বিএনপির ওই হতভাগ্য নেতাকে তুলে নেওয়ার স্থান থেকে অনধিক ৫০০ গজের মধ্যে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে পৈশাচিক বর্বরতায়।

পত্রিকান্তরের খবরে প্রকাশ, প্রভাবশালী তালুকদার পরিবারের দীর্ঘকালের রেষারেষির পরিণতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু এটা লক্ষণীয় যে, নিহত ব্যক্তি এবং যাঁরা তাঁকে কথিতমতে তুলে নিয়েছেন, তাঁরা তালুকদার বংশীয় এবং তাঁদের বংশগত কোন্দল নতুন কোনো ঘটনা নয়। তাঁদের মধ্যকার পরস্পরবিরোধী দুই গোষ্ঠীর একাংশ আওয়ামী লীগ এবং অপরাংশ বিএনপি ধারায় বিভক্ত, সেটাও আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হয়নি। উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের হাবিবুর তালুকদারের সঙ্গে একই বংশের ইদ্রিস তালুকদারের জমি নিয়ে বিরোধ পুরোনো। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে ছোটখাটো বিরোধেও জড়িয়েছেন। কিন্তু সামান্য ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিপক্ষ পরিবারের মধ্যে ঝগড়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে গেল।

দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্ষুদ্র শহর মঠবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ এই সেদিনও কল্পনা করতে কুণ্ঠিত ছিলেন যে, তাঁদের এলাকায় ফিল্মি কায়দায় এ রকম রোমহর্ষক ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আশা করব, হাবিবুর রহমান তালুকদারকে প্রকাশ্যে তুলে নেওয়া গোষ্ঠী এবং তাঁর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সক্ষমতার পরিচয় দেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

তবে নীতিনির্ধারক এবং সমাজবিজ্ঞানীদের আশু ভাবনার বিষয় হলো, আমরা কোথায় চলেছি? দেশের পুলিশ এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার প্রতি এসব ঘটনা যদি দেশবাসীর মধ্যে আস্থায় বড় রকমের চিড় ধরিয়ে দেয়, তাহলে তার প্রতিকার কে দেবে?

[আজকের দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত সম্পাদকীয়]

 

Comments

comments