,

শিরোনাম :
«» সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৩ দিনব্যপী বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু «» মঠবাড়িয়ায় ইসলামী ঐক্যের মহা সম্মেলন সফল করতে সংবাদ সম্মেলন «» মঠবাড়িয়ায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক «» মঠবাড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন «» মঠবাড়িয়ায় দিনব্যাপী দুর্যোগ বিষয়ক কর্মশালা «» মঠবাড়িয়ায় অটিজম ও নিওরো ডেভেলপমেন্ট ডিজএ্যাবিলিটিজ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত «» মঠবাড়িয়ায় খাল ভাঙ্গন রোধে পাইলিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন «» মঠবাড়িয়ায় ১হাজার ৩ শ’ পিস ইয়াবাসহ মা, মেয়ে ও ছেলে গ্রেফতার «» মঠবাড়িয়ায় ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় মিলেছে «» মঠবাড়িয়ায় ২৯ হাজারের অধিক শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

১৬ ডিসেম্বর থেকে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান

মঠবাড়িয়া প্রতিদিন ডেস্ক : আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সকল জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’ ব্যবহার করা উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে হবে। আমরা এভাবেই রায় দেব। এটা আমাদের অভিমত।
আদালত বলেন, ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’-এ ধরনের স্লোগান ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু দেশের জন্মের সঙ্গে যে স্লোগান, তার কোনো পরিবর্তিত রূপ হতে পারে না।
বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ অভিমত ব্যক্ত করেন। আদালত ‘জয় বাংলা’ নিয়ে জারি করা রুলের ওপর ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন।
মঙ্গলবার রিট আবেদনকারী আইনজীবী ড. বশির আহমেদ নিজেই শুনানি করেন। এ ছাড়া রিট আবেদনকারীকে সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুল মতিন খসরু, এম কে রহমান, এএম আমিন উদ্দিন, মো. শাহ আলমসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদের করা এক রিট আবেদনে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণার নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, আইন ও শিক্ষা সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এরপর ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর এক আদেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও রাষ্ট্রীয় নীতি জানতে চান। এরই ধারাবাহিকতায় দুই বছর আগে জারি করা রুলের ওপর আজ শুনানি হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘জয় বাংলা’ ইতিহাসের অংশ। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। এই স্লোগান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’।
তিনি বলেন, এটা কোনো সাধারণ স্লোগান নয়। এটা একটি চেতনা। এই চেতনাকেই ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এই স্লোগানে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আমাদের সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান সন্নিবেশিত করা হয়। সুতরাং সংবিধান অনুযায়ী আদালতের আদেশ দেবার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই স্লোগান সম্পর্কে জানাতে হবে। এটা আমাদের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি।
আব্দুল মতিন খসরু এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’–এটা কেন? ‘জয় বাংলা’ নয় কেন? এটা জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করতে বাধা থাকার কথা নয়।
আদালত বলেন, পাকিস্তানের আদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হয়েছে। বাংলাদেশে একমাত্র স্লোগান হওয়া উচিত ‘জয় বাংলা’। এর কোনো বিকল্প হতে পারে না।
আদালত বলেন, ‘বাংলাদেশ চিরজীবী হোক’–এটা কেন? দেশের জন্মের সঙ্গে যে স্লোগান তার কোনো পরিবর্তিত রূপ হতে পারে না। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে এই স্লোগান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই স্লোগান ব্যবহারে আমাদের মধ্যে দ্বিধা কোথায়? এই স্লোগানকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) লিখিতভাবে বিস্তারিতভাবে জবাব দিতে চাই। এরপর আদালত আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। সূত্র : কালের কণ্ঠ অনলাইন।

0Shares

Comments

comments