,

শিরোনাম :
«» মঠবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা ছাত্র গ্রেফতার «» মঠবাড়িয়ায় নির্বাচনী বিরোধের জেরে দুই প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত «» মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা «» মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ হওয়ায় আনন্দ শোভাযাত্রা «» মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় «» মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগনের দায়িত্ব গ্রহণ «» মঠবাড়িয়ায় ১১মামলার আসামীসহ ২ ডাকাত গ্রেফতার «» দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ১৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে মঠবাড়িয়ায় শোভাযাত্রা «» মঠবাড়িয়ায় দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি : বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে মারধর «» মঠবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা

বিজয়ের এই দিনে…

আবুল কালাম মোঃ আজাদ : আজ মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত হয় বলেই আজ বিজয় দিবস। এবারের বিজয় দিবস ৪৭তম। আমরা পিছনে ফেলে এসেছি ৪৬টি বছর। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে এবারের বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। যখন প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের বোঝা নিয়ে অতীব সমস্যার বেড়াজালে দেশের সরকার। ৩টি প্রবল বন্যার ক্ষতি এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এখনো সমূলে জঙ্গি দমন সম্ভব হয়নি। মাঝে মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জঙ্গি নামের দৈত্য-দানব। মজুদদাররা চালের দাম, পিঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনো বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। এখনো ঘাপটি মেরে আছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিরা। এমনি একটি সময়ে আমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিজয় দিবসের মহান বার্তা। ১৯৭১ সালের দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে তা-ব চালিয়েছে এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর তা লিখে শেষ করবার নয়। ত্রিশ লক্ষ মানুষকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সম্ভ্রামহানি হয়েছে দু-লক্ষ মা-বোনের। ধ্বংস করেছে এদেশের শিল্পকারখানা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট। স্বাধীন দেশ যাতে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য নামিদামি কবি-সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। প্রায় ১ কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে ছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল তাদের পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। আর এই ঘৃণ্য কাজে সহযোগিতা করেছিল এদেশের কিছু কুলাঙ্গার রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস। বিজয়ের এই দিনে আমরা ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই ঐ সকল কুলাঙ্গারদের।
আজকের এই বিজয় সহজে অর্জিত হয়নি। ২৩ বছর লড়াই সংগ্রামের ফসল এই বিজয়। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র নির্বাচন, ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-র ছয় দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন সকল আন্দোলনের ফসল যখন বাঙালি জাতিকে এক চিন্তায়, এক মোহনায়, এক দফার আন্দোলনে দাঁড় করাতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধু ঠিক সেই সময় ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’’ এ ভাষণ প্রতিটি বাঙালির মনে শক্তি ও সাহস রূপে পৌঁছে গিয়েছিল। আর ঠিক তখনই মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৩ বছরের লাঞ্ছনা-বঞ্চনা আর আন্দোলনে শহীদদের রক্তের প্রতিশোধের আগুনে ছারখার করে অবশেষে এল ১৬ই ডিসেম্বর। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৯০ হাজার সদস্যের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার হতে মুক্তি পান বাঙালি জাতির পিতা মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের মাটিতে পা রাখার পর শুরু হল এক নতুন সংগ্রাম। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু নতুন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন। শুরু হলো ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হওয়া একটি দেশের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, শিল্প-কারখানা প্রভৃতি তৈরির কাজ। সোনার বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে যাতে হাসি ফোটানো যায় তার সব রকম প্রচেষ্টাই অব্যাহত ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে মার্কিন পাক ষড়যন্ত্র চলছিল গোপনে। তারা বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে সরিয়ে দেওয়া যায় তার নীল নকশা তৈরি করল। আর তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেছে নিল এদেশের উচ্চাভিলাষী কিছু বেইমান সেনা সদস্যকে। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বও রোডের বাড়িতে সপরিবারে হত্যা করা হলো, থমকে গেল গোটা জাতি। আবারও পিছনের দিকে দেশ।
আজকের বিজয়ের এই দিনে আমরা দেখছি বঙ্গবন্ধুকন্যা যেভাবে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাচ্ছেন তা বড়ই বিস্ময়ের। আজ দেশের স্বপ্ন এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে নিজ দেশের অর্থায়নে। মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ। অর্থনীতিতে এখন অনেক এগিয়ে। দেশজুড়ে জিডিপি এখন ৬-এর উপরে। ইন্টারনেট হাতের মুঠোয়। ফোরজি চালুর অপেক্ষায়। সর্বোপরি শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয় বাস্তবতা। আজকের বিজয়ের এই দিনে তাই সকল শহীদের স্মরণ করছি যেমন, তেমনি নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে আজকের এই বাংলাদেশকেই। তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হলে আত্মত্যাগী মানুষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।
লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা, মঠবাড়িয়া।

 

Comments

comments