,

শিরোনাম :
«» মঠবাড়িয়ায় রাস্তার পাশে লাইসেন্স ছাড়া পেট্রল ও এলপি গ্যাস বিক্রি, ব্যবসায়ীর জরিমানা «» মঠবাড়িয়ায় অবরোধকালীন সময় সংশোধনের দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন «» মঠবাড়িয়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু «» মঠবাড়িয়ায় নুসরাত হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন «» মঠবাড়িয়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত জান্নাতিকে অর্থ সহায়তা প্রদান «» মঠবাড়িয়ায় বৈশাখী মেলায় নিখোঁজ হওয়া স্কুল ছাত্র নয়নের ৮ দিনেও সন্ধান মেলেনি «» মঠবাড়িয়ায় ইভটেজিং এর দায়ে দপ্তরীর অর্থদন্ড «» নুসরাত হত্যার সর্বোচ্চ বিচার চেয়ে মঠবাড়িয়ায় মানববন্ধন «» আ: ছত্তার আকনের ইন্তেকাল «» মঠবাড়িয়ায় মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারীর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

বলেশ্বরের বুকে আরেক টুকরো বাংলাদেশ

শফিকুল ইসলাম খোকন : উপরে নীল আকাশ, নিচে চারদিকে জলরাশি, মাঝখানে প্রকৃতি সাজিয়েছে অপরূপ একটি দ্বীপ। দ্বীপটির চারপাশে অথৈ জলরাশি আর সবুজ বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। একদিকে রয়েছে ধু-ধু বালুচর, অন্যদিকে রয়েছে শীতল বালু, যেখানে প্রকৃতি অপরূপে এঁকে রাখে বিভিন্ন ধরনের ফুল। অন্যদিকে ঢেউয়ের গর্জন আর সূর্যাস্ত। পাখির কিচির-মিচির আর হরিণের ছোটাছুটি তো আছেই। কাঁকড়া, শামুকের অবাধ ছোটাছুটি আর বিভিন্ন পাখির কলকাকলী মুহূর্তেই মুগ্ধ করে দেয় যে কাউকে।

এত গল্প, এত প্রশংসা আর এত গুণগান যার তার নাম বিহঙ্গ দ্বীপ। পাথরঘাটার কয়েকজন সংবাদকর্মী আর কয়েকজন সমাজকর্মী পর্যটক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবিষ্কার করেছেন সৌন্দর্যে ভরা এই দ্বীপ। তারাই নাম রেখেছেন বিহঙ্গ দ্বীপ। নাম আর বাস্তবে যেন পুরো মিল। যেখানে বিহঙ্গের সঙ্গে বিহঙ্গের মিলন। বিহঙ্গরা উড়ে এসে জুড়ে বসে বিহঙ্গ দ্বীপে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাগরের মাঝে বড় কোনো সবুজ পাহাড়। সাদা বালুচরের লাল কাঁকড়া লাল গালিচা দূরে সাদা গাংচিল, বক, চেগা পাখি। বনের মধ্যে পায়ে হাঁটা পথে কিছু দূর গেলে পাখির কলোরব আর চোখের সামনে দৌড় দিয়ে যাবে মায়া হরিণের পাল।

সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদ। যে নদের পূর্বে রয়েছে পাথরঘাটা আর পশ্চিমে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। বলেশ্বর নদের মধ্যবর্তী জলরাশির মাঝে জেগে ওঠে দ্বীপটি। পার্শ্ববর্তী রুহিতা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের তথ্যমতে ওই দ্বীপটি জেগে উঠেছে ২০ থেকে ২৫ বছর আগে। আস্তে আস্তে প্রকৃতির নিয়মে নিজে নিজেই সজ্জিত হয়েছে দ্বীপটি। একসময় এ দ্বীপটিকে স্থানীয় জেলেরা ধানসির চর বলে জানত। কারণ প্রথমে এ চরটি জেগে ওঠার সময় প্রচুর ধানসি ছিল। যা কালের পরিক্রমায় এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম গোলাকার প্রায় ১৫০ একর জেগে উঠেছে বিশাল এই চর। এই চরে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের আনাগোনা ছিল অনেক আগেই। এ চরের সঙ্গে অনেক আগ থেকেই স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পরিচিত ছিলেন। অনেক আগ থেকেই এ চরটি নামকরণসহ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা কৌশল অবল্বন করেছেন সংবাদকর্মীরা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আস্থা’র সভাপতি সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, পর্যটনপ্রেমী আলোকচিত্রী সাংবাদিক আরিফুর রহমান, প্রত্যয়ের সভাপতি চিত্রশিল্পী মেহেদি শিকদার, সাংবাদিক এএসএস জসিম, আবুজর ইবতে রাফি, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. বাইজিদ, জেলে মোস্তফা মুন্সী চরটিতে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিহঙ্গ দ্বীপের সূচনা করেন। স্থাপন করেন ‘বিহঙ্গ দ্বীপ’ লেখা নামফলক। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বন বিভাগ, স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ ও আরিফুর রহমান বলেন, এ দ্বীপ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে অপরূপে সাজিয়ে রেখেছেন। দ্বীপটির চারপাশে অথৈ জলরাশি ও সবুজে ঘেরা। ঢেউয়ের গর্জন আর সূর্যাস্ত। পাখির কিচির-মিচির তো আছেই। এছাড়াও কাঁকড়া, শামুকের অবাধ ছোটাছুটি আর বিভিন্ন পাখির কলকাকলী মুহূর্তেই মুগ্ধ করবে পর্যটকদের।

পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত বিহঙ্গ দ্বীপ নামটি শুনে। আমরা আরও আনন্দিত এ রকমের একটি দ্বীপ আমাদের এলাকায় আবিষ্কার হয়েছে। আমাদের উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য যা করা দরকার তাই করব।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

 

Comments

comments