,

শিরোনাম :

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মঠবাড়িয়ার ৩ আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়

মো. সাইদুল হক খান : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে সারা দেশে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী তৎকালীন খুনি সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেফতার হন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াও এর বাইরে নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করার জন্য তখনকার মঠবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম মোক্তার, আবদুল বারেক আকন ও মো. এমাদুল হক খান কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন নেতার সাথে গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। সে সময় খুনি মোস্তাক সরকারের রোষানলে পড়ে ৭৫-এর ১৮ আগস্ট এই তিনজন গ্রেফতার হন। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পরে তারা মুক্তি পান।

অন্যদিকে পেয়ারে পাকিস্তানের আপনজন ছিলেন আবদুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার (পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত)। জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের অনুসারীরা বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে গর্ত থেকে আস্তে আস্তে বের হতে থাকে। পরবর্তীতে মঠবাড়িয়ার সকল স্বাধীনতাবিরোধী জেনারেল জিয়ার ঘোষিত ১৯ দফাকে সমর্থন করে তার দলে যোগদান করে। আবার ১৯৮২ সালে সামরিক শাসক এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে ওই একই মুখগুলো জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়। সব থেকে মজার বিষয় হলো, তখনকার বিএনপি তাদের অফিস হিসেবে যে ঘরটি ব্যবহার করত ঠিক সেই ঘরটিই জাতীয় পার্টির অফিসে পরিণত হয়। অর্থাৎ ওই একই সাইনবোর্ড জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা মুছে এরশাদ সাহেবের ১৮ দফা বাস্তবায়নের কার্যালয়ে পরিণত হয়।

লেখক : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। বর্তমানে কুয়েত প্রবাসী।

 

Comments

comments