,

শিরোনাম :
«» পিরোজপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি.এম সরফরাজ «» মঠবাড়িয়ায় নারী ভোটারদের উদ্ভুদ্ধ করতে যুব মহিলা লীগের কর্মী সভা «» প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে মঠবাড়িয়ায় শিক্ষার্থীদের শোভাযাত্রা ও মানববন্ধন «» মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়ায় যুব মহিলা লীগের কর্মী সভা «» মুক্তিযোদ্ধা দেলায়ার হোসেন বাদলের (গোলকি বাদল) ইন্তেকাল «» আশরাফুর রহমান জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত «» মঠবাড়িয়ায় শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ «» মঠবাড়িয়ায় কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ ॥ বিষ পানে আত্মহত্যা ॥ ৭ বছর পর ধর্ষক গ্রেফতার «» মঠবাড়িয়ায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে এক জেলের কারাদন্ড «» মঠবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসক স্বপ্নজয়ীদের বাইসাইকেল প্রদান করলেন

পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ সাহেবের প্রতি

সম্মানীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভাইজান, পতরের শুরুতে আমার শত কুটি সালাম গেরহন করবেন। আশা হরি আমনহে গায় কুশলে আছেন। মোরাও গাও-গেরামের অদম মুরখো নাড়াকাডা পাবলিকেরা খোদার মেহেরবানিতে কোনো রহম আছি। ম্যালা দিন তাইক চিন্তা হরলাম আমনহারে কয়ডা কতা কমু। কিন্তু আমার সোমেস্যার লইগ্যা দেরি অইয়া গ্যাছে। পাবলিকেও মোরে ক্যাল ক্যাল জিগায় বড় মিয়ার চিডিপতরের খবর কি? হ্যাগো জ্বালায় শ্যাষ পোরযোন্ত না লেইক্কা পারলাম না। এ্যাহোন ফাও প্যাচাল না পুইড্ডা আসল কতায় যাই।

১। মোগো পাশের গেরামের কার্তিক শীল কয়, আমনহে খ্যামতাআলা চেহারমান, রাজনীতির ঘরের মানু, ক্যাল ক্যাল নিরবাচিত নামকরা চেহারমানের পোলা। কোন চাবিতে কোন তালা খোলে হ্যা ভালো হইর্যা জানেন। নাইলে পুরান নেতার

হুম্মিইদ্দা চেহারমান অওয়া সহজ কতা না। আমনহার কপালহান পুরা আষ্টো আংগুল, আতে আছে বুদ্ধির রেখা, চেহারাও মায়াবী। আল্লাহ নানান রহম খ্যামোতা দেছে। খাদিম যদি ঠিকমত দেতে পারেন, ছোডার কোনো পোত নাই। মাতার মইদ্যে ডিজিটাল পালা-পইরান রাকপেন, হ্যালে ভুল অইবে না। মোনে রাকপেন জম্মের ওজন আমনহার চেয়ারহানের ।

২। পাশের বাড়ির হাসমুইত্তা মাঝি কয়, দ্যাশে নতুন নেতার অভাব নাই, যারা রাজনীতি বোঝে না, হ্যাগো নেতামি হরা উচিত না। পাবলিকের সোমরথন নাই, কাইড্ডা-কুইড্ডা অইয়া চোর ডাহাইত, টাউট-বাটপার, মাদকসেবী দলে

বোলাইয়া আনে। কয়দিন পর সরকারি টাহা আততোসাত, আদিপইতো বিচতার, দুরনাম বানাইয়া পেপারের হেডলাইন অয়। এই কামডা হরবেন না।

৩। মোগো সুলতান দুদু কয়, মডবাইড়্যার এ্যামোন কোনো জাগা নাই য্যাহানে নেশাখোর নাই। ছোড-বড়, সব বয়সের মানু হরেক রহমের মাদক সেবন করে। স্কুল-কলেজের ছাত্ররা বড় ভাইগো মাধ্যমে মাদক পায়। মাদকের কারণে ম্যালা ঘরের ব্যাডারা শ্যাষ তো অইচেই, সোংসারডাও দংশ অইবে। বড় বড় ব্যাডারা মাদকের ব্যবসা হরে। দ্যাহার কেউ নাই। পুলিশে দুই-চাইড্ডা কানচ্যালা-তিতপুডি- করহিনা দইর্যা চলান দ্যায়। বড়োতার ধারে-কাছেও যাই পারে না। এইয়া দ্যাহার কেউ নাই। দ্যাশের মেধা তো শ্যাশ অইয়া যাইবে। আমনহার আতে কিছু থাকলে হইর্যা হালান।

৪। মহারাজ ভাইজান, মোর পেরতিবেশী সলেমান চাচায় কয়, সনত্রাসী, চাদাবাজ, চাপাবাজ, তোষামোদকারী, ভূমিদস্যু যারা, হ্যারাই বোলে নেতাগো ধারে এছথান পায়, নেতারাও হ্যাগো বোলায়। এইরহোম অইলে মোরা নাড়াকাডা

পাবলিক যামু কোম্মে? আল্লাহ ছাড়া মোগো কেউ নাই। আমনহে এই সোমোসতো মানেরে জাগা দেবেনা না। শক্ত আতে দোমন হরবেন।

৫। চেয়ারম্যান ভাই, মোর পাশের বাড়ির ছলিমদ্দি দুদু কয়, বেইমান কোনো দিন বিশ্বাস হরা যায় না। গত জেলা পরিষোদ নিরবাচনে আমনহারে যারা ভোট দ্যায় নায় ঐসব ব্যাডাগো চিন্যা রাকপেন। বিশশাস করবেন না মোনে থাহে য্যান।

খোজখবর লইয়া দ্যাকলাম হ্যারা এহোনও আমনহারে খুব ভালো চোহে দ্যাহে না। কিন্তু পাবলিকে আমনহারে এ্যাকছের ভালো পায়।

৬। মহিউদ্দিন দাদা, ভাণ্ডারিয়ার কেতাবালী কয়, চরহালী ফেরিঘাট দিয়া ডেলি শতে শতে গাড়ি, ম্যালা মানু চলাফেরা হরে। হ্যাহানে একটা ফেরি চলে। পাবলিকের ভোগের দুক্কের শ্যাষ নাই। আমনহে ম্যালা খ্যামতা আলা মানু, পাবলিকের সুবিধার লইগ্যা দুইডা ফেরির বেবসতা হইরর্যা দ্যান, মানসে দোয়া হরবে।

৭। সাংবাদিক ভাই, মঠবাড়িয়া পেরেস কেলাবের সাংবাদিকেরা কয় আমনহে বোলে ঐ কেলাবের আজীবন সদস্য। ইলেকশোনের আগে অদা দেলহেন, জেলা চেয়ারম্যান অইতে পারলে পেরেস কেলাবটারে দালান বানাইয়া দেবেন। কতাডা মোনে হরাইয়া দেলাম। সাংবাদিকেরা আমনহার দিগে চাইয়া রইছে। হ্যাগো বওয়ার ব্যাবোসতা হইর্যা দ্যান।

৮। চেয়ারম্যান সাহেব, গফ্ফাইর্যা দুদু কয়, মিরুখালী বাদুরা ভুতা খালডা ম্যালাদিন তাইক বান্দা দিয়া আটকাইয়া থুইচে। ঐ খালডা যুগ যুগ ধইর্যা হাত-আষ্টোডা গেরামের ধানের ক্ষ্যাতে পলি মাডি দ্যায়। হরেক রহমের মাচ দ্যায়,

ক্ষ্যাতের ফসল ভালো অয়, ব্যাডারা চিংগইর মাছ বেইচ্যা খায়। আবার সোমায় মত ভাডায় পানি টাইন্যা যায়। এ্যাহোন বান্দা থাহার লইগ্যা হারা বচ্চর পানি আইটক্যা থাহে। মানের চুলায় পানি ওডে। গরু-বাছুর গাস পায় না। মানের দুক্কের শ্যাষ নাই। ক্ষ্যমোতা আলারাও কেউ কিছু হরতে পারলে না। আমনে বিষয়ডার দিগে এট্টু খ্যাল দিয়েন। দোয়া পাইবেন।

বড় ভাইজান,গেয়ানী মানে কয় “সঙ্গী দেইক্যা মানু চেনা যায়” তয় আমনহারে মুই একটা পরামিশ দেতে চাই। আমনহে কোনো সময় গুন্ডা-ফান্ডা, টাউট-বাটপার, সনত্রাসী, নেশাখোর এই কেলাশের মানের লগে ফটোক তোলবেন না। কারণ এই ফটোক দিয়া তোষামোদকারীরা ব্যানার-ফেসটুন বানাইয়া গাছে গাছে টাঙ্গাইয়া দেয়। হ্যা মানে দেইক্ক্যা নানান রহম সমালোচনা হরে। এগুলা হোনলে মোগো একছের খারাপ লাগে, মানেও মোন্দ কয়।

৯। শ্যাষে একখান কতা না কইয়া পারলাম না। কতা প্যাডে রাইক্ক্যা লাভ কী? মোগো ছোমেদালী পক্কি কয়, আমনহে চেয়ারম্যান অওয়ার পর পেরদান মোনতিরির লগে দ্যাহা হরতে গ্যালহেন। হেইয়ার একখান ফটোক চরহালী ফেরিঘাডে দেইক্ক্যা মুই ফুরতির ঠ্যালায় কাদার রাসতায় আডার সময় পাচার খাইয়্যা ঠ্যাং শ্যাষ অওয়ার পালা। এত ব্যাডাগো কইলাম, কেউ নজর দেলে না। মোর বাড়ির সামনে তিনশো ফুড রাসতা। কয়ডা টাহা লাগে? এট্টু নজর দিয়েন। নিচে মোর ঠিকানা আছে। কতা আর বারামু না। কপালে থাকলে আবার লেকমু। আমনহার শরীলের দিকে খ্যাল রাইক্ক্যেন।

ইতি জেলার অধম, মুরখো, নাড়াকাডা পাবলিকের পকখে ‘বড় মিয়া’।

 

গ্রন্থনা : মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ, শিক্ষক, মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজ

সাংবাদিক, মঠবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর।

 

Comments

comments