,

শিরোনাম :

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত জনি তালুকদারের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত গুলিসাখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি জনি তালুকদার (২৫) এর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার নিহত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জনি তালুকদারের লাশ বরিশালে ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বিকাল চারটার দিকে লাশ বাড়ির উঠানে আসলে শোকার্ত গ্রামবাসি ও আ.লীগের নেতা কর্মীরা সেখানে সমবেত হন। এ সময় নিহতের পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় গুলিসাখালী জিকে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে। শেষে নিহত জনির লাশ গুলিসাখালী বাজার সংলগ্ন বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজার আগে সেখানে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় বক্তব্য দেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর, উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি মো. আরিফ উল হক ও নিহত জনির চাচা স্বপন তালুকদার।
নিহত জনির চাচা স্বপন তালুকদার বলেন, নির্বাচনে আনারস প্রতিকে সমর্থন দিতে গিয়ে আমার ভাতিজাকে প্রতিপক্ষদের হাতে নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে। আর যেন কাউকে এভাবে মরতে না হয়। আমরা এখন জীবনের নিরাপত্তা চাই। নিহত জনির দুই বছরের শিশু ও স্ত্রীর জীবনের নিশ্চয়তা চাই।
স্বামীহারা গৃহবধূ সাবিনা আক্তার (২০) কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার স্বামীরে যখন ধাওয়া কইরা কোপায় তখন হামলকারিদের হাতে পায় ধইরা স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইছিলাম। আমার শিশু কণ্যা ও আমার সামনে তবু তারে নৃশংসভাবে কোপাইয়া মারছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই। এ মাছুম বাচ্চা নিয়া আমি অহন কেমনে বাঁচমু?
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক জনি তালুকদারকে সোমবার সকালে বাড়ি থেকে ধাওয়া করে মাঠে ফেলে ২০/২৫ জনের একদল সন্ত্রাসীরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মাঠে ফেলে রাখে। পরে তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।
সর্বশেষ নির্বাচনে পরবর্তী সহিংসতা ঠেকাতে মঠবাড়িয়ায় মঙ্গলবার ৫ প্লাটন বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আ.লীগের বিবদমান দুই পক্ষে হামলা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জনি হত্যার ঘটনায় আ.লীগ নেতা কর্মীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
আগামী ৩১ মার্চ মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এমন অবস্থায় ভোটারদের মাঝেও শংকা বিরাজ করছে।

 

Comments

comments