,

শিরোনাম :

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল : মঠবাড়িয়ায় ৩ শতাধিক জেলে পরিবার ৪ দিন ধরে অভুক্ত!

স্টাফ রিপোর্টার : উপকূলীয় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বুলবুলের আঘাতে প্রায় বিশ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে বলেশ^র নদতীরবর্তী কচুবাড়িয়া, খেতাছিছা ও ভাইজোড়া জেলেপাড়ার ৩ শতাধিক পরিবার গত ৪ দিন ধরে অভুক্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধের কারণে বলেশ^র নদের তীব্র জোয়ারের পানির চাপে জেলেদের বাড়িঘরের সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেলে বলেশ^র বাজার সংলগ্ন জেলেপল্লীর ২০ পরিবারের মধ্যে কিছু খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল।

এদিকে উপজেলায় বুলবুলের আঘাতে প্রায় ১৭ হাজার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ১৮টি গবাদিপশু মারা গেছে, দেড়শ মৎস্য চাষের পুকুর ও ঘের ডুবে গেছে এবং ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে ও বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ায় সারা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কের দুইপাশের কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে।

উপজেলার কচুবাড়িয়া জেলেপল্লীর আছমা বেগম জানান, বুলবুল তাদের সব কিছু ভাসিয়ে নেয়ায় গত ৪ দিন ধরে তারা অভুক্ত আছেন। জেলেদের অভিযোগ, বুলবুলের আঘাতে তারা সর্বস্বান্ত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি।

উপজেলার কচুবাড়িয়া ও খেতাছিড়া গ্রামের জেলে আ. রাজ্জাক, বাবুল আকন, শংকর হাওলাদার, সুধাংশু হাওলাদার ও সোমেদ ফরাজী জানান, বুলবুলের আঘাতে তাদের নোঙর করা মাছ ধরার ট্রলার ও জালসহ নৌকা ডুবে গেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলায় পাঁচ সহস্রাধিক কৃষক অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ঝড় ও জলোচ্চ¦াসে আমন ধান ৭ হাজার হেক্টর, পান ৩০ হেক্টর, সরিষা ২ হেক্টর, ফল ও শাকসবজি ক্ষেতসহ ২০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকের কাছে এর ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।

উপজেলার মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের তোড়ে উপজেলার ১৫০ মৎস্য খামার পুকুরের ঘের তলিয়ে ৩৫ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপন বিশ^াস জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতির পরমিাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

 

0Shares

Comments

comments