,

শিরোনাম :
«» মঠবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসা ছাত্র গ্রেফতার «» মঠবাড়িয়ায় নির্বাচনী বিরোধের জেরে দুই প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত «» মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা «» মহিউদ্দিন আহমেদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ হওয়ায় আনন্দ শোভাযাত্রা «» মঠবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় «» মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগনের দায়িত্ব গ্রহণ «» মঠবাড়িয়ায় ১১মামলার আসামীসহ ২ ডাকাত গ্রেফতার «» দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ১৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে মঠবাড়িয়ায় শোভাযাত্রা «» মঠবাড়িয়ায় দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি : বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে মারধর «» মঠবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন মঠবাড়িয়ায় আ’লীগ দ্বিধা-বিভক্তি ॥ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

স্টাফ রিপোটারঃ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। সভা, পথসভা, মিছিলসহ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
চতুর্থ তথা শেষ ধাপে আগামী ১৮ জুন মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। দলীয় প্রতীকের বাইরে গিয়েও নেতাকর্মীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন, করছেন গণ সংযোগ। ফলে কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারি হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকুর (নৌকা) পক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ (আনারস) এর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে প্রকাশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুজ আশরাফুর রহমান। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। নানা দ¦ন্দ, সংঘাতের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও দীর্ঘদিনের আ.লীগের দ্বন্দের নিরসন হয়নি। ওই নির্বাচনের রেস শেষ হতে না হতেই তফসিল ঘোষণা হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের। বিগত ৩১ মার্চ তৃতীয় ধাপে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে প্রার্থীদের মাঝে শুরু হয় অস্তিত্বের লড়াই। মারমুখি হয়ে পড়ে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রাথীর সমর্থকরা। এতে নৌকা প্রার্থী, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গুরুতর আহত হন অনেকে। অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণ হারায় স্বতন্ত্র প্রাথীর এক কর্মী। পরে গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেন।
১৮ জুন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের রদ-বদলসহ বাড়তি নজরদারী রাখা হয়েছে। রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাকিল আহমেদ নওরোজ (চশমা প্রতীক) জানান, আমি একজন মুসুল্লী। আমি মসজিদে নামাজ পড়ি। নামাজ পড়তে গেলে অবশ্যই ইমাম সাহেবকে আমার মানতে হবে। অন্যথায় মসজিদ পাল্টাতে হবে। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়নের বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় তারা তো আওয়ামী লীগের কেউ হতে পারে না। তাদের তো দল পরিবর্তন করা উচিৎ। ১৮ তারিখের নির্বাচনে ব্যলটের মাধ্যমে জনগন ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দেবে।
সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুর রহমান সিফাত (টিয়া প্রতীক) জানান, যেহেতু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশ গ্রহন করেনি। সেখানে দলের বাইরে থেকে নির্বাচন করতে কোন বাঁধা নিষেধ নেই। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে অপেক্ষা করছে। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
দলীয় প্রার্থী হোসাইন মোসারেফ সাকু (নৌকা প্রতীক) জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতি ভালবাসা ও মমত্বের কারণে ছুটে এসেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালক করে এলাকায় উন্নয়ন মূলক কাজ শুরু করি। জনগনের দোড় গোড়ায় পৌছে যাই। প্রাকৃতিক দূর্যোগ সিডরের সময়ে বিদেশি দুতাবাসের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা এনে এলাকার গরীব মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। তাই এলাকায় আমার ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। যার ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু আমার গণজোয়ারে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তার সমর্থকরা আমাকে হত্যার চেষ্টা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমি বিজয়ী হলে এলাকা থেকে মাদক ও সন্ত্রাসীদের মূল উপড়ে ফেলে শান্তিপূর্ণ মঠবাড়িয়া গড়বো ইনশাল্লাহ্।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (আনারস প্রতীক) জানান, ১৮ তারিখ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় আমাদের নিশ্চিত। এটা বুঝতে পেরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার লোকজন মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, ভোট কারচুপি করে ক্ষমতা দখলের কৌশল অবলম্বন করছে। আমার নেতাকর্মীদের মারধরসহ হামলা, মামলা দিয়ে ঘর ছাড়া করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনকে কলূষিত করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চায়। এতে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ ভোট প্রদানের সুযোগ পেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো এবং মঠবাড়িয়াকে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও শতভাগ মাদক মুক্ত আধুনিক ডিজিটাল মঠবাড়িয়া উপজেলায় পরিনত করব।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে সমাপ্ত করার লক্ষে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, আরআরএফ, ডিবি পুলিশের টিম কাজ করছে। কোন ক্ষমতার বলে কেউ যদি ভোট কারচুপির চেষ্টা করে তার সুযোগ নেই। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।

Comments

comments