,

শিরোনাম :

আদালতের নির্দেশে তরঙ্গ ফিরে পেল সিটিসেল

ডেস্ক রিপোর্ট : সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর তরঙ্গ ফিরে পেয়েছে দেনার দায়ে বন্ধ হওয়া মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল। বিটিআরসির প্রধান শাহজাহান মাহমুদ মঙ্গলবার রাতে বলেন, আদালতের নির্দেশনায় তরঙ্গ ফিরিয়ে দিতে চিঠি দেওয়া হচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তারা তরঙ্গ ফিরে পাবে। বিটিআরসির কর্মকর্তাদের সিটিসেলে অফিসে গিয়ে তরঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া করতে হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সিটিসেল কর্তৃপক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়া পরই তাদের তরঙ্গ ফিরে পাবে।

সিটিসেলের তরঙ্গ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দিতে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে মঙ্গলবার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে এই অপারেটরের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি লাইসেন্স পুনর্বহালের আদেশও দেওয়া হয়। বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানানোর পরদিন আদালতের এই নির্দেশনা আসে।

বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সিটিসেল ইতোমধ্যে চিঠি পেয়েছে অর্থাৎ তারা তরঙ্গ ফিরে পেয়েছে। তাদের ই-মেইল করে এ চিঠি করে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় সিটিসেলকে গত জুনে যে চিঠি দিয়ে তরঙ্গ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল সেই চিঠির কার্যকারিতা বাতিলে করে বিটিআরসি থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গত নভেম্বরের মতো এবার বিটিআরসি কর্মকর্তাদের সিটিসেল অফিসে গিয়ে এ প্রক্রিয়া করতে হবে না, কারণ গত জুনে তাদের চিঠি দিয়ে তরঙ্গ বাতিলের কথা জানানো হয়েছিল, অফিসে গিয়ে রেডিও ইকুপমেন্ট সিলগালা করা হয়নি।

বিটিআরসির পাওনা পৌনে পাঁচশ কোটি টাকা না দেওয়ায় গতবছর ২১ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আংশিক দেনা পরিশোধের পর আদালতের নির্দেশে ১৭ দিন পর সিটিসেলের সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হলেও এ বছর ১১ জুন আবারও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে বিটিআরসির বিরুদ্ধে আদালত অবমানানার অভিযোগ আনে সিটিসেল। তার ওপর শুনানি করে মঙ্গলবার আপিল বিভাগ আদেশ দেয়।

ঘটনাক্রম

পৌনে পাঁচশ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের জন‌্য কয়েক দফা তাগাদা দিয়েও তা না পেয়ে গতবছর জুলাই মাসে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করার উদ‌্যোগের কথা জানায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। পরের মাসে সিটিসেলকে নোটিস দেওয়া হয়।

ওই নোটিসের বিরুদ্ধে সিটিসেল হাই কোর্টে যায়। গতবছর ২২ অগাস্ট হাই কোর্টের আদেশে বলা হয়, নোটিসের জবাব দিতে বিটিআরসি যে এক মাস সময় দিয়েছিল, ওই সময় পর্যন্ত সিটিসেলকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যায় বিটিআরসি। ২০১৬ সালের ২৯ অগাস্ট আপিল বিভাগের আদেশে দেনা শোধের জন‌্য সিটিসেলকে দুই মাস সময় দেয় আপিল বিভাগ। বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, বকেয়া ৪৭৭ কোটি টাকার মধ‌্যে দুই তৃতীয়াংশ প্রথম এক মাসে এবং এক তৃতীয়াংশ পরবর্তী এক মাসে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া ১৭ অগাস্টের পর থেকে প্রতিদিন বিটিআরসির কাছে পাওনা হওয়া ১৮ লাখ টাকা করে অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলে, টাকা না পেলে বিটিআরসি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে।

২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করে বিটিআরসি। মহাখালীতে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন বিটিআরসি কর্মকর্তারা।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সেদিন জানান, একমাসের প্রথম কিস্তিতে নির্ধারিত ৩১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ‌্যে সিটিসেল মাত্র ১৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

এরপর সিটিসেল তরঙ্গ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত বা পুনরায় তরঙ্গ বরাদ্দের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায়। শুনানি শেষে আদালত গতবছর ৩ নভেম্বর আদেশের দিন রাখে। ৩ নভেম্বর সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দিতে বলা হয়।

৩ নভেম্বরের শুনানিতে বিটিআরসি তাদের দাবির পরিমাণ কমিয়ে ৩৯৭ কোটি টাকায় নিয়ে আসে। কিন্তু ওই অংক নিয়েও সিটিসেল আপত্তি তোলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় কিস্তিতে সিটিসেলকে কত টাকা দিতে হবে তা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। বলা হয়, ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সিটিসেল ১০০ কোটি টাকা না দিলে বিটিআরসি আবার তরঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারবে।

এছাড়া আদালত বিটিআরসির সঙ্গে সিটিসেলের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক ভিসি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। ওই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।

তিন দিনেও তরঙ্গ ফিরে না পেয়ে ৬ নভেম্বর ফের আদালতে যায় সিটিসেল। তাদের আবেদনের শুনানি করে এ বিষয়ে বিটিআরসির ব্যাখা জানতে চায় আপিল বিভাগ। ওইদিন সন্ধ্যায় বিটিআরসির কর্মকর্তারা সিটিসেলে গিয়ে তরঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করেন। কিন্তু এরপর রাজধানীর মহাখালী এলাকার বাইরের সিটিসেল গ্রাহকরা কোনো সেবা বা সংযোগ পাচ্ছিলেন না।

সিটিসেলের আইনজীবী আহসানুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯ নভেম্বরের আগেই ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপরও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সিটিসেলকে কারণ দর্শাও নোটিস দেয় বিটিআরসি।  কেন তাদের তরঙ্গ বন্ধ করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় সেখানে। সিটিসেল ওই নোটিসের জবাব দিলেও ‘যথাযথ কারণ উল্লেখ না করেই’ গত ১১ জুন বিটিআরসি সিটিসেলের তরঙ্গ বন্ধ এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি লাইসেন্স বাতিল করে দেয় বলে আইনজীবীর ভাষ্য। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিটিআরসির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আবেদন করে সিটিসেলের মালিক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক টেলিকম লিমিটেড। সে আবেদনের শুনানির পর মঙ্গলবার আদেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। [সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম]

 

Comments

comments